ডেইলি খবর ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পদ নয়। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র চূড়ান্ত দায়িত্ব।
তিনি বলেন,আমরা এমন এক সশস্ত্র বাহিনী চাই, যাদেরকে বহিঃশক্তি সমীহ করবে আর দেশের জনগণ রাখবে আস্থায়। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে সবসময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি স্তরে দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন, তা যেন কখনো নিভে না যায়।
রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা, ২১ শে নভেম্বর যৌথ সামরিক পূর্ণতা এবং ৭ ই নভেম্বর দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের পুনর্জাগরণ— এই তিন অবিভাজ্য ধারা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহ্যের মেরুদণ্ড। গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত রেখে এই বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে টিকিয়ে রাখা আমাদের সকলের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালে ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব কিংবা ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার উৎস।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে আশান্বিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে এবং দৃশ্যমান প্রশাসনিক অচল অবস্থাতেও সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের পুরো সময়টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে দেশের শিল্পাঞ্চল, নগর, বন্দর এবং স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা ছিল ইতিবাচক।
তিনি বলেন, গত ১২ ই ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা ছিল দেশ ও জনগণ এবং গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালে বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের সময় দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টাও চালানো হয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি বজায় রাখা হবে আমাদের অগ্রাধিকার। বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের যে সাফল্য রয়েছে, আগামী দিনেও আমরা সেই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখব ইনশাআল্লাহ। বহির্বিশ্বে দেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করতে আমাদের সততা, আপনাদের সততা, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্বশীলতা একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করবে। বর্তমান সরকার মিলিটারি টু মিলিটারি পার্টনারশিপ উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে চায়। নতুন প্রজন্মের সেনা সদস্যদের দেশপ্রেম, সাহস ও প্রজ্ঞাকে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় করে একটি বিশ্বমানের স্মার্ট ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই, ইনশাআল্লাহ। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :