শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

ডেইলি খবর ডেস্ক: দেশের প্রথম পারমাণবিক স্থাপনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পারমাণবিক পরিবারে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ’ (আইএফওয়াই-২০২৬)-এর ‘মিডিয়া স্ট্রিম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাশিয়ার ভাবমূর্তি’ শীর্ষক এক প্লেনারি সেশনে এ মাইলফলকের কথা তুলে ধরেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আন্দ্রে তিমোনভ।

আন্দ্রে তিমোনভ বলেন, রোসাটম বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক প্রযুক্তির অগ্রভাগে রয়েছে। তারা উৎপাদন চক্রের প্রতিটি স্তরে বিশ্বমানের সমাধান দিয়ে থাকে। আমাদের ব্যাপক আন্তর্জাতিক উপস্থিতির কারণেই এই অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ বছর রোসাটম তাদের বাংলাদেশি অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম পাওয়ার ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে। এই গ্রীষ্মেই ইউনিটটির কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা একটি নতুন পারমাণবিক শক্তির উত্থান দেখছি। এই প্রকল্পটি শুধু দেশের জ্বালানি চাহিদাই মেটাবে না, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী গতিশীলতাও এনে দেবে। যাতে দেশটি অন্যান্য দেশের মতো কয়েক দশক সময় না লাগিয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের যাত্রা সম্পন্ন করতে পারে।

বাংলাদেশে নিজের সফরের কথা স্মরণ করে তিমোনভ বলেন, আমি অনেকবার বাংলাদেশ সফর করেছি এবং এর সুন্দর প্রকৃতি ও চমৎকার মানুষের প্রতি পুরোপুরি মুগ্ধ। অবশ্যই দেশটি বিকশিত হচ্ছে। অবশ্যই, দেশটির একটি অত্যন্ত জটিল ইতিহাস রয়েছে।

তিমোনভ বলেন, মাত্র ১০ বছর আগেও তাদের দেশে পারমাণবিক শক্তির কোনো কথাই ভাবা যেত না। আর আজ আমরা দেশটিকে একটি নতুন পারমাণবিক শক্তি হিসেবে স্বাগত জানাচ্ছি।

এ সময় তিনি পুরো বাংলাদেশে দৃশ্যমান একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়ের বর্ণনা দেন, আর তা হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আবেগ। তিনি বলেন, রাশিয়ায় এবং খোদ বাংলাদেশেও বিপুলসংখ্যক তরুণ পারমাণবিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে আগ্রহী হচ্ছেন।

তিমোনভ বলেন, পারমাণবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন কয়েক দশকের পুরোনো। প্রথমবারের মতো এই প্রজাতন্ত্রে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ধারণাটি সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলেই উত্থাপিত হয়েছিল, যখন প্রজাতন্ত্রের তৎকালীন প্রধান লিওনিদ ইলিচ ব্রেজনেভের কাছে এই অনুরোধ নিয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আর দেশটি এখন আসলে কী করছে? এটি কেবল তাদের জ্বালানি ঘাটতিই মেটাচ্ছে না—বরং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাহায্যে খুব দ্রুত এমন কিছু করার চেষ্টা করছে, যা করতে অন্যান্য দেশের ৬০ থেকে ৮০ বছর সময় লেগেছিল।

তিমোনভ জোর দিয়ে বলেন, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, মনে হয়েছিল, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে—কিন্তু বাস্তবে আমরা জাতীয় গর্বের একটি প্রতীক নির্মাণ করেছি। আমরা এমন একটি স্থাপনা নির্মাণ করেছি, যা নিয়ে পুরো দেশ গর্বিত।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইয়েকাতেরিনবার্গে ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘ফলো ইওর ড্রিম’ স্লোগান নিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ’ (আইএফওয়াই-২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়।

এই উৎসবে সারা বিশ্ব থেকে ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে এবং ১৯১টি দেশ থেকে ১০ হাজার অংশগ্রহণকারী এতে অংশ নেন। বাংলাদেশও এতে প্রতিনিধিত্ব করেছে। দেশটি থেকে প্রায় ৯০ জন প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!