বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

মক্কা চুক্তি কী, বাংলাদেশ কেন যোগ দিতে চায়?

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

মক্কা চুক্তি কী, বাংলাদেশ কেন যোগ দিতে চায়?

ডেইলি খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, জোটভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। খবর বিবিসি বাংলার।

প্রায় এক বছর আলোচনার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে সই করেন। মক্কায় চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের কাছেও এর আলাদা তাৎপর্য তৈরি হয়েছে।

মক্কা চুক্তি কী?

সহজ করে বললে, এটি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। চুক্তির মূল কথা হলো- তিন দেশের কোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে অন্য দুই দেশ তার পাশে দাঁড়াবে।

তবে আক্রান্ত হলে ঠিক কত সেনা, যুদ্ধবিমান বা অস্ত্র পাঠাতে হবে, সে বিষয়ে চুক্তিতে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এ কারণে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এটিকে এখনই ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট না বলে তিন দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার একটি অঙ্গীকার হিসেবে দেখছেন।

চুক্তির আরেকটি লক্ষ্য হলো তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদের সঙ্গে কার্যত তুলনা করেছেন।

কেন এই তিন দেশ এক হলো?

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা, ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং গাজা যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনা এই চুক্তির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

তিন দেশের সামর্থ্যও একে অন্যের পরিপূরক। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। আর তুরস্ক সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে এগিয়ে।

গবেষক আলতাফ পারভেজের মতে, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—এই তিন দেশের সক্ষমতা একসঙ্গে তাদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে পারে।

চুক্তির ভবিষ্যৎ আরও বড় হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তার লক্ষ্য, ভবিষ্যতে আরও মুসলিম দেশকে এই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা।

বাংলাদেশ কেন যোগ দিতে আগ্রহী?

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের চুক্তির পর বাংলাদেশও এতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ আগ্রহী। ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে এমন কোনো নিরাপত্তা চুক্তি হলে বাংলাদেশ সেখানে যুক্ত হওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করে না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খানের মতে, বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে সামরিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই সুবিধা পেতে পারে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাকিস্তান ও তুরস্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ঝুঁকি দেখছেন বিশ্লেষকেরা

তবে এই জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাংলাদেশ এমন কোনো সামরিক কাঠামোয় যুক্ত হলে প্রতিবেশী ভারত বিষয়টিকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে পারে।

গবেষক আলতাফ পারভেজের মতে, এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। ভারত তখন ইসরাইলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতায় যেতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি সংঘাত ও প্রক্সি বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থাৎ, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার যেমন সম্ভাব্য সুবিধা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিও। ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কীভাবে এবং কোন শর্তে এই জোটে যুক্ত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!