ডেইলি খবর ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশেও। সরকারের তরফ থেকে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে আশ্বস্ত করা হলেও দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোয় চাপ কমছে না। আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনতে অনেকেই ভিড় করছেন রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনগুলোয় আজ শনিবারও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক জায়গায় তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা।
সংকট মোকাবেলায় গতকাল শুক্রবার জ্বালানি তেল সরবরাহের ওপর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনায় একটি মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে।ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার এবং মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আমি আগেও বলেছি, গতকালকেও বলেছি, আজকেও বলছি, তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নাই। আমরা রেশনিংটা করেছি এই জন্যই যে যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা আছে। সে জন্য আমরা একটা রেশনিং করেছিলাম।
কিন্তু মানুষ এই রেশনিংটাকে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নাই।’ তিনি আরো জানান, ৯ মার্চ আরো দুটি জাহাজ আসছে, সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নেই।’
তার এমন আশ্বাসের পরও শনিবার রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও গণপরিবহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। অনেক পেট্রল পাম্পে যানবাহনের চার-পাঁচ স্তরের জটলা তৈরি হয়েছে।
কোনো কোনো মোটরসাইকেলচালককে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করে কোটায় নির্ধারিত তেল নিতে দেখা গেছে। কিছু ফিলিং স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের পর তেল বিক্রি বন্ধ রাখছে। এর আগেও গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারও একই চিত্র দেখা গেছে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্টেশনেই জ্বালানি তেলের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কিছু সময়ের জন্য বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।ছবি-সংগৃহীত

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :