মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

সামনে নির্বাচিত সরকারের ৫ বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে ক্রাইসিস গ্রæপ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

সামনে নির্বাচিত সরকারের ৫ বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে ক্রাইসিস গ্রæপ

ডেইলি খবর ডেস্ক: এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সামনে পাঁচটি প্রধান চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সংস্কারের মাধ্যমে ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠান মেরামত, কর্মসংস্থান তৈরি,ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসন, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর উত্থান রোধ এবং আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনা বা মোকাবিলা করা। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যর্পণ এবং জলবায়ু সমস্যার মোকাবিলাও করতে হবে। ব্রাসেলসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ক্রাইসিস গ্রæপ’-এর নিবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির বাংলাদেশ ও মিয়ানমারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরামর্শক টমাস কিন বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধটি লিখেছেন।এটি সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ‘অরাতর্র্বতী সরকারের বিদায়ঘণ্টা: ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।
শেষ প্রশ্নটি ছিল, পরবর্তী সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী? এর উত্তরে বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকারকে একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্বল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পোশাক রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল মন্থর অর্থনীতি এবং বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। এছাড়া ভারতকে সঙ্গে নিয়ে জটিল পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তীব্র হতে থাকা প্রতিদ্ব›দ্বীতার প্রভাব এবং মিয়ানমার সীমান্তের কাছে ক্যাম্পে থাকা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মর্যাদার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ার মতো বিষয়গুলোও তাদের সামলাতে হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হিযবুত তাহ্রীরের মতো কট্টরপন্থি ইসলামী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সহিংস চরমপন্থি তৎপরতা রুখতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
আগামী বছরগুলোতে স্থিতিশীলতার জন্য সম্ভবত সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতা। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষের বয়স ৩০-এর নিচে এবং তাদের অনেকেই শিক্ষার সঙ্গে মানানসই কাজ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। শুধু চাকরির সুযোগ নয়, বাংলাদেশের তরুণরা দেশ পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং উন্নয়নের সুফল সব মানুষের মধ্যে সুষম বণ্টন দেখতে চায়। ‘জুলাই সনদ’ থেকে শুরু করে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো ধরনের হোঁচট খেলে তরুণদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হতে পারে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রæতি দেওয়া হয়েছিল তা শুধু লোকদেখানো।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী সরকারকে রাজনৈতিক সমঝোতার মতো জটিল বিষয় নিয়েও কাজ করতে হবে। দেশের ইতিহাসে গুরুত্ব এবং বড় ভোটব্যাংকের কারণে আওয়ামী লীগ চিরকাল রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থাকতে পারে না। তবে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দলটির কর্মকান্ডের পর তাদের রাজনীতিতে ফেরানো কঠিন হতে পারে। আওয়ামী লীগকে কোনো না কোনোভাবে রাজনীতিতে ফেরার শর্তাবলি নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্য তৈরি হলে তা সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। এর জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে ২০২৪ সালে আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো সহিংসতার জন্য আন্তরিক অনুশোচনা দেখাতে হবে। এটি শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত করতে অস্বীকার করেছেন। ক্রাইসিস গ্রæপ পরামর্শ দিয়েছে, ভারতসহ প্রভাবশালী বিদেশি রাষ্ট্রগুলো নতুন সরকার ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করতে পারে।
পাঁচ বছর মেয়াদি নির্বাচিত সরকার অন্তর্র্বতী প্রশাসনের চেয়ে রাজনৈতিক বিবাদ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তবে কাজগুলো হবে অনেক বেশি এবং জটিল। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর উচিত, বাংলাদেশের অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন অধ্যায় শুরুর এই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সরকারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া।
‘সংস্কারের অগ্রগতি কতটুকু?’প্রশ্নের উত্তরে বিশ্লেষক বলেছেন, অন্তর্র্বতী সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির ক্ষেত্রে বড় সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের প্রধান অর্জন ‘জুলাই জনদ’ তৈরি, সেখানে সংবিধানসহ ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। ২৫টি দল এই সনদে সই করেছে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো এবং বিচার বিভাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা খাত সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মব সহিংসতা ও বিচারহীনতা জনমনে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। নির্বাচনের দিন এই সংবিধানের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সব সংস্কার বাস্তবায়ন করা শুধু পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সদিচ্ছার ওপরই নির্ভর করছে।
নিবন্ধটি শুরু হয়েছে ‘কী ঘটছে বাংলাদেশে?’ এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি বাংলাদেশের প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম ভোট। গত ১৫ বছরে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবারই প্রথম বড় সংখ্যক ভোটার একটি গ্রহণযোগ্য ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
‘ভোটে অংশ নেওয়া প্রধান রাজনৈতিক দল কোনগুলো’ এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্ব›দ্বীতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে বিএনপি উজ্জীবিত।অন্যদিকে, তরুণদের সমর্থন ও এনসিপির সঙ্গে জোট গঠন করে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে জামায়াত। ভোটাররা সব রাজনৈতিক দলের বিকল্প খুঁজছেন। প্রধান দুই জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ওপরই ভোটের ফলাফল নির্ভর করছে।ফাইল ছবি
 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!