বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

আল-আরাফাহ ব্যাংক চাকরিচ্যুতদের হামলা ১৫ জন আহত

আইন-অপরাধ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৫, ১১:৪৬ পিএম

আল-আরাফাহ ব্যাংক চাকরিচ্যুতদের হামলা ১৫ জন আহত

দেশের আেল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের হামলায় মানবসম্পদ বিভাগের প্রধানসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। তিন ডিএমডির গাড়ি আটকে রাখার পর তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টায় দৈনিক বাংলা মোড়ে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের নিচে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত সিকিউরিটি গার্ড শাহিনুরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান আমির হোসেনকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক।ব্যাংক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্কে ৫ আগস্টের আগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অসংগতি উঠে এসেছে।
বিষয়টি নিয়মের মধ্যে আনার জন্য সারাদেশের ১ হাজার ৪১৪ কর্মকর্তার মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর মধ্যে অকৃতকার্য ৫৪৭ জনকে অব্যহতি দিয়েছে ব্যাংক। চাকরিচ্যুত এসব কর্মকর্তারা গত ২৮ জুলাই আকস্মিকভাবে আল-আরাফাহ ইসলামী বাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রবেশমুখে জড়ো হয়ে মানবন্ধন করে। এরপর থেকে গত ৮ কর্মদিবস সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রধান কার্যালয়ের গেইট বন্ধ করে রেখেছে। আন্দোলনকারীদের সরাতে শক্তি প্রয়োগ না করার নীতি অবলম্বন করার পরও আজ বৃহস্পতিবার এ অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে।ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধান কার্যালয়ের গেইট আটকে রাখায় গত ৩ আগস্ট পল্টন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ব্যাংক। চাকরি হারানোর ওপর কোনো ধরনের বল প্রয়োগ না করার জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের বলা হয়েছে। যে কারণে তারা প্রধান কার্যালয়ে না গিয়ে আশপাশের বিভিন্ন অস্থায়ী জায়গায় বসে অফিসের কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন।
ব্যাংকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টানা ৮ কার্যদিবস ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয়ের পাশ্ববর্তী সুরমা টাওয়ার থেকে তিন ডিএমডি ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান নিচে নেমে গআড়িতে উঠছিলেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা ছুটে এসে গাড়ি ঘিরে ধরেন। এইচআর হেড আমির হোসেনকে বেধড়ক মারধর করেন। তাদের উদ্ধার করতে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে এলে প্রায় শতাধিক হামলাকারী লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে। হামলায় আহতদের মধ্যে আরও আছেন নিরাপত্তাপ্রহরী লিটন, ইলিয়াস, ফাহিম, রকি হোসেন, তোফায়েল, নুর আলম, আরিফ, জাকির হোসেন, সাগর, লুৎফর, ফারুক ও সোহেল। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল, স্কয়ার হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ছাড়াও কয়েকটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক থেকে অনেকেই চাকরিচ্যুত হয়েছে। কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শিক্ষাগত সনদ যাচাই কিংবা অন্য প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের বেশিরভাগের বাড়ি চট্রগ্রামের পটিয়া। এসব ব্যাংক থেকে চাকরি হারানোদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়, সি পটিয়া নামের একটি ফেসবুক পেজে। এই পেইজে দাবি করা হয়েছে, ‘চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অতর্কিত হামলা করেছে। এই হামলায় শতাধিক আহত হয়েছেন।’

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!