শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আটা ময়দা চিনির দাম আরো বাড়তি,স্বস্তি নেই মাছ-মাংস-ডিমে

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম

আটা ময়দা চিনির দাম আরো বাড়তি,স্বস্তি নেই মাছ-মাংস-ডিমে

ডেইলি খবর ডেস্ক: দেশের বাজারে আটা, ময়দা ও চিনির দাম বেড়েছে। অন্যদিকে সবজির দাম কিছুটা কমে ভোক্তার নাগালের মধ্যে এলেও মাছ-মাংস ও ডিমের বাজার এখনো চড়া দামেই আটকে আছে। গ্যাসসংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চিনি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার সপ্তাহ আগেও এসব আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

খোলা আটা ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। অর্থাৎ প্রায় এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে ময়দার দামও। বর্তমানে খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১০ টাকা।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের তথ্য বলছে, গত এক মাসের ব্যবধানে প্যাকেট আটা কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খোলা ময়দা কেজিতে সাত থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং প্যাকেট ময়দা ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা চিনির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১২০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। 
রাজধানীর বাড্ডার মোদি দোকানদার সাইফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে আটা ও ময়দা খোলা ও প্যাকেট দুটির দামই বেড়ে গেছে। আগে দুই কেজির আটার প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল ১২০ টাকা। এখন কম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করেছে। একইভাবে দুই কেজির ময়দার প্যাকেটের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। খোলা চিনির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে। ভোজ্যতেলের নতুন করে দাম না বাড়লেও এখনো বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাসেম বলেন, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে চিনিকলগুলোর উৎপাদন কমে গেছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাজারে চিনির সরবরাহ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। উৎপাদন স্বাভাবিক না থাকায় পাইকারি বাজারে চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে সরবরাহ বাড়ায় এখন বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢেঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০, শসা ৫০ থেকে ৬০, করলা ৮০, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০, লতি ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ মানভেদে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়, বেগুন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ সাইজভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ ও আলুর দামে তেমন পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে ডিমের দাম এই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল। মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!