বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশের চাহিদা মিটিয়ে সমরাস্ত্র রপ্তানি করতে চায় সেনাবাহিনী-সেনাপ্রধান

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

দেশের চাহিদা মিটিয়ে সমরাস্ত্র রপ্তানি করতে চায় সেনাবাহিনী-সেনাপ্রধান

ডেইলি খবর ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সমরাস্ত্র রপ্তানি করতে চায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমিতে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সমরাস্ত্র বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। প্রতিরক্ষা শিল্পকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে চান তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে জলিল টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণে জমি হস্তান্তর ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা খালি এই প্রতিরক্ষা শিল্প নিজের প্রয়োজন মেটানোই নয়, আমরা এটাকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে চাচ্ছি।’

তার ভাষ্য, এ প্রকল্পে জলিল টেক্সটাইল থেকে ছাঁটাই হয়ে চলে যাওয়া শ্রমিকের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। একই সঙ্গে এখান থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি অ্যাসল্ট রাইফেল, অ্যামুনিশন ও গোলাবারুদের বিদেশে চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন দেশ এসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন কেস-টু-কেস ভিত্তিতে দেওয়ার প্রক্রিয়া থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনি কিছু রপ্তানি করবেন, তারপর আমি একটা চিঠি দেব; চিঠি অ্যাপ্রুভ হয়ে আসতে আসতে লাগবে দেড় মাস, দুই মাস। এইভাবে কোনো রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রসার সম্ভব নয়।’

তার মতে, অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তাহলে দ্রুততার সঙ্গে সমরাস্ত্র রপ্তানি করা সম্ভব হবে এবং এ খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।

ফৌজদারহাটে জলিল টেক্সটাইলের জায়গাটি বেছে নেওয়ার কারণও তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘জায়গাটি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি। ফলে উৎপাদিত পণ্য পরিবহন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেবে। পাশাপাশি পাহাড়ঘেরা হওয়ায় বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকজাতীয় সরঞ্জাম উৎপাদনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও আশপাশের মানুষের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।’

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা যা কিছু ফায়ার করব, সেগুলো সব আমরা নিজেরা তৈরি করব। কারণ আমদানি করে যুদ্ধ করা সম্ভব না।’

দেশের তিন বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য প্যারামিলিটারি বাহিনীর জন্যও সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই পূরণ করা হবে। এরপর অতিরিক্ত উৎপাদিত সমরাস্ত্র বিদেশে রপ্তানি করা হবে। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বে প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কম মূল্যে ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের চাহিদা রয়েছে। সরকার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানিতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

জানা গেছে, ১৯৬১ সালে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে প্রায় ৫৫ একর জমির ওপর জলিল টেক্সটাইল মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে নেওয়া হয়। একসময় সুতা ও কাপড় উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ছিল এবং মানসম্মত উৎপাদনের জন্য তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদকও পেয়েছিল। তবে লোকসান ও নানা সংকটে ২০০৪ সালে এর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর এখন সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জায়গায় গড়ে উঠতে যাচ্ছে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের নতুন অবকাঠামো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সমরাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও শক্তিশালী হবে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!