ডেইলি খবর প্রতিবেদক: ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পত্রিকায় কর্মরত ব্যবস্থাপনা সম্পাদক/ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শামীম সিদ্দিকীর বকেয়া বেতন-ভাতা না দিয়ে উল্টো মামলা দিয়েছেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের কর্ণধার প্রফেসর ড. গোলাম রহমান।
ফায়দা লুটতে মামলা দায়েরের সহযোগীতা ও উদ্ভুদ্ধ করেছেন গোলাম রহমানের সাথে থেকে লুটেপুটে খাওয়া হিসাব রক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদ ও কোম্পানী সেক্রেটারি মো: রফিকুজ্জামান রফিক।
ডেইলি খবরকে শামীম সিদ্দিকী জানান ঢাকা আহছানিয়া মিশনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশে সরকার নির্দেশিত ৮ম ওয়েজ বোডে ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের পদে স্থায়ী চাকরি। কিন্তু গত ২৪ মাস কোনো কারণ ছাড়াই আমার বেতন-ভাতা বকেয়া রেখেছেন গোলাম রহমান।
আমি গুরুতর অসুস্থ হার্টের রোগী উচ্চরক্তচাপ-ডায়েবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত। সাথে আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ। তার শরীরে বারডেমে ৪টি অপারেশন করা হয়েছে। গোলাম নহমান নাকি মানবতার কাজ করেন। এমন বিপদের সময়ে তার কোনো মানবতা দেখেনি। পাওনা টাকাও পাইনি। একটা নরপিচাশও এর থেকে ভালো।
প্রশ্ন হচ্ছে গোলাম রহমান এনজিও ডামে কিসের মানবতার সেবা করেন। আসলে তিনি একটা ভন্ড, দুর্নীতিবাজ ক্রিমিনাল। তার বিচার এবার আদালতের মাধ্যমেই ফয়সালা হবে বলে মনে করি। গোলামের অপকর্ম তল্লাসী করাই তো ডেইলি খবরের সাংবাদিকের কাজ, সাংবাদিকরা তাই-ই করছে।
গোলাম রহমান আরও ভয়ংকর অপরাধ করেছেন। তিনি গত আড়াই-৩ বছর যাবত অন্ধকারে রেখে একজন অর্ধমৃত মূমুর্ষ ব্যক্তি কাজী রফিকুল আলমের নাম দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের প্রিন্টার্স লাইনে সম্পাদক ও প্রকাশক হিসাবে ছেপে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা করছেন। যা এসবের কিছুই জানেননা কাজী রফিকুল আলম।
এদিকে গোলাম বলেছেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ থেকে কাজী রফিকুল আলম সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ থেকে ৩ বছর আগে পদত্যাগ করেছেন ,সম্পাদক নিয়োগের কাজ প্রক্রিয়াধীন, ৩ বছরেও সম্পাদক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীনই আছে।
প্রশ্ন হচ্ছে একজন মূমুষ ব্যক্তি যিনি কথা বলতে ও শুনতে পারেননা, চলাচল করতে পারেননা অর্ধমৃত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। তিনি কিভাবে সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন? আসলে তথ্য গোপন করে গোলাম-আজাদ আলোকিত বাংলাদেশ থেকে লুটেপুটে খেয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে মানহানীর মামলা করেছেন গোলাম রহমান। প্রতিদিন পত্রিকা ছাপার কথা ১ লাখ ৫২ হাজার কিন্তু ছাপছে মাত্র আড়াইশ থেকে ৩’শ। পত্রিকাটি বর্তমানে দেশের কোথাও পাওয়া যায় না। দেশ-জাতি ও পাঠক সমাজ এবং সরকারের সাথে বিড়াট প্রতারণা করছেন গোলাম সিন্ডিকেট। তারা সরকারী বিজ্ঞাপনের ৯’শ টাকা কলাম ইন্চি রেটে অর্থ নিয়ে লুটে খাচ্ছে।
এদিকে এসব গুরুতর অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই কাল হয়েছে শামীম সিদ্দিকীর। লুটেপুটে খেতে বাধা হিসাবে দেখা হতো ব্যবস্থাপনা সম্পাদককে। তিনি যাতে নিয়মিত অফিস করতে না পারেন তার জন্য তার অফিসের গাড়ি বন্ধ রেখে বলা হতো নষ্ট হয়েছে।
গোলাম রহমান আরও বলেছেন আলোকিত মিডিয়া লিমিটেড পর্ষদ কাজী রফিকুল আলমকে এই পদে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খোজ নিয়ে জানা গেছে আলোকিত মিডিয়া পর্ষদ এসব কিছুই জানেননা তারা আছেন গোলাম চক্করের অন্ধকারে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরও জানান গোলাম রহমানের কাছে পাওনা চেয়ে একাধিকবার আবেদন করলেও তা আমলে নেয়নি, ফোন করলেও রিসিভ করেননি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় একাধিকবার বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য আবেদন করা হলেও মানবতার ফেরিওয়ালা সারা দেয়নি।
বিষয়টি ডেইলি খবরে জানালে ডামের প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের খোজখবর নেওযা শুরু করে এবং তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত ধারাহিক সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ হতে থাকে যা এখনো অব্যহত আছে।
তিনি বলেন ডেইলি খবরে গোলাম রহমানের বিরুদ্ধে নানারকম মিথ্যাচার-জালিয়াতি-জোচ্চুরি প্রতারনার খবর প্রকাশ হলেই তিনি এর কোনো প্রতিবাদ না করে তথ্য গোপন করতে ব্যস্ত সময় কাটান।
দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ থেকে তার মাইম্যান হিসাব রক্ষক আজাদ ও তার বন্ধু কোম্পানী সেক্রেটারি ঘুষে অডিট রফিকুজ্জামানের সহায়তায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে ও সরিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে গোলাম রহমান কোনো কথা বলতে চাননা।
প্রশ্ন হচ্ছে তার লোক আজাদের বিরুদ্ধে বেতনের নামে আলোকিত বাংলাদেশ থেকে লুটপাটের অভিযোগ প্রকাশ হলেও কোনো তদন্ত করেনি, ব্যবস্থাও নেয়নি। অনিয়ম-দুর্নীতি ও মাস্তানির অভিযেগ নিয়ে ডেইলি খবরে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলে পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদা আক্তার খানম ও আমার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানীর মামলার আরজি করেন গোলাম রহমান। প্রশ্ন হচ্ছে গোলামের মানের দাম কত?
খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যার থাকার কথা জেলহাজতে। এখন সেই দুর্নীতিবাজ একজন সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করেছেন মানহানীর মামলা। প্রশ্ন হচ্ছে মান কতটুকু আছে তার?
পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো হামলা দিযে সাংবাদিকদের মুখোমুখি দার করিয়েছে দান-খয়রাত পাওয়া এনজিও ঢাকা আহছানিয়া মিশনকে। এ তথ্য বিদেশের মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ায় সমালোচনার মুখে পরেছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন।
এদিকে মামলা দায়ের করার পরেই দেশ-বিদেশের মিডিয়া বিষয়টি নিয়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায় সারাদেশের মিডিয়া পাড়ায়। তারা ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে এনজিও ডামের কি লাভ হলো?
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরও জানান আমার পাওনা তো পরিশোধ করতেই হবে। দাবীর চেয়ে এখন আরও বেশী পরিশোধ করতে হবে। আমি মনে করি এখনো সময় আছে বিষয়টি আপশরফা করা উচিত। না হলে কেচোঁ খুরতে গিয়ে বিড়াট বিড়াট অজগর সাপ বেড়িয়ে আসবে।
এদিকে ডাম সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে এই গোলাম রহমানসহ ৩ জনের সিন্ডিকেট ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনে ৩/৪ বছর আগে চাকরিতে যোগদান করেই নানারকম অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পরে এবং ভুল পরামর্শে তারা ৭০ বছরের সুনাম বিনষ্ট করছেন গোলাম রহমান। দান-খয়রাতও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এদিকে সাংবাদিকরা নজরদারিতে রাখছেন শামীম সিদ্দিকীর সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে। তার কিছু হলে সহজে পার পাওয়া যাবেনা এবং দায় থাকবে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের। নেতারা বলেছেন অবিলম্বে তার পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :