ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও বিনামূল্যের ওষুধ তারা পায়না। তেমনি এক রুগী মির্জা রফিক ১০ দিন ধরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি। সরকারি হাসপাতাল, তাই ভেবেছিলেন অন্তত কিছু ওষুধ ফ্রি পাবেন। কিন্তু তার চিকিৎসার জন্য জরুরি ‘এনোক্সাপারি ইনজেকশন’ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। রক্ত জমাট বাধা প্রতিরোধ করা এই ইনজেকশনটির প্রতিটি ডোজের দাম প্রায় ৫০০ টাকা। নিতে হবে চার থেকে ছয়টি। রফিক বলছেন, এটি তার চিকিৎসা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে অনেকখানি।
হৃদরোগে দেশের সর্বোচ্চ এই চিকিৎসাকেন্দ্রে শুধু এনোক্সাপারিন ইনজেকশন নয়, জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা এমন প্রায় ৭০ শতাংশ ওষুধই মেলে না, অভিযোগ করলেন রোগীরা।তারা জানান, মেডিসিন তো বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। কোনোটি হাসপাতাল থেকে দেয়া হচ্ছে না। ৫ থেকে ৬ টাকা পাতার দু-একটি ওষুধ দিচ্ছে, এটি তো কোনো ব্যাপারই না।
আরও খতিয়ে দেখতে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে কথা হলো দায়িত্বরত একজন নার্সের সঙ্গে। তিনিও জানালেন এই ঘাটতির কথা। বললেন, এখন আমাদের সাপ্লাই নেই, এ জন্য রোগীদের ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। সাপ্লাই থাকেল উভয় পক্ষের সুবিধা—রোগীদের এবং এখানে কর্মরতদেরও।
কী ওষুধ আছে, কী নেই, তা জানতে গেলে হাসপাতাল স্টোরে মেলেনি দায়িত্বশীল কাউকে। জানানো হয়, স্টোরকিপার নেই।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় সব রোগীকে ওষুধ দেয়া সম্ভব হয় না তাদের পক্ষে। আছে দরপত্রের দীর্ঘসূত্রিতাও।
তিনি বলেন, ক্রয়, স্টোরে জমা, সেখান থেকে রোগীদের কাছ পর্যন্ত যাওয়া—এই প্রক্রিয়াটি আসলে দীর্ঘ। আমি অতি উৎসাহী হয়ে কোম্পানির কাছ থেকে অগ্রিম এনে রোগীদের দিলাম, পরবর্তীতে অডিটে আমি বিপদে পড়ে যাব। মূলত, চাহিদার থেকে যখন বেশি রোগী এসে পড়ে তখনই গ্যাপটা সৃষ্টি হয়।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গেও। তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ আনার ব্যবস্থা করছে সরকার।হৃদরোগী ও তাদের স্বজনরা চান, দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হোক, বাড়ানো হোক বরাদ্দ। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :