শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

নরসিংদী ড্রিম হলি ডে পার্কের সামনে সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন,গ্রেপ্তারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

নরসিংদী ড্রিম হলি ডে পার্কের সামনে সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন,গ্রেপ্তারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

ডেইলি খবর প্রতিবেদক: নরসিংদীতে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সব আসামীকে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। সংগঠনের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এই আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এজাহার নামীয় আসামীদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ছবি প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় নরসিংদী জেলার এসপি ও মাধবদী থানার ওসির অপসারণের জন্য বৃহত্তর কর্মসুচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। 
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ চত্বরে ক্র্যাবের আয়োজনে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে বলে জানান ক্র্যাব সভাপতি। 
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ, ডিফেন্স জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন-ডিজাব, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন-র্যাক, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স এসোসিনয়েশন, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, ঢাকা জার্নালিষ্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন। 
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবিতে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাংবাদিক সমাজ। ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা আইজিপি কেউই ক্র্যাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আহতদের দেখতেও যাননি-যা খুবই দু:খজনক। নরসিংদীতে যারা সাংবাদিকদের হামলা করেছে তারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রয়েছে। কারণ পুলিশও ওইসব চাঁদাবাজদের কাছ থেকে ভাগ পায়। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় দ্রæত ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি নরসিংদী জেলার এসপি ও থানার ওসির অপসারনের দাবি জানান। 
ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন,ক্রাইম রিপোর্টাররা যখন আঘাতপ্রাপ্ত তখন বোঝা যায় দেশের কি অবস্থা। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা স্পষ্ট। তাই অবিলম্বে তাদের গ্রেফতারের দাবী জানান ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক। 
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন নরসিংদীর ঘটনা ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের হামলার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। তিনি অবলিম্বে আসামী গ্রেপ্তার না হলে ঢাকা অচল করার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্যই শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে এদেশের মানুষ। সরকারের সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু সালেহ আকন বলেন, এদের দিয়ে কিছু হবেনা। যে কারনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছেনা।
প্রতিবাদ সভায় ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ বলেন, ভিডিও এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামীদের এখনো গ্রেপ্তার না করা প্রশাসনিক গাফিলতি। ঘটনার পরপরই অভিযান শুরু না করে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে আসামীদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তাই দ্রæততম সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করার আহবান জানান ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক। 
ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, ঘটনার পর পুলিশকে অবগত করা হলেও দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যা খুবই দু:খজনক। 
ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি মধুসূদন মন্ডল বলেন, ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে যেখানে এই মামলা করা হয়েছে এজাহার দেয়া হয়েছে সেখানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এই পর্যন্ত শুনতে পেয়েছি , সেখানে মাত্র ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকি আসামী ধরতে এত সময় লাগার কথা নয়।  
ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান খান বলেন, যেখানে ট্রিপল নাইনে কল করলে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছাতে বাধ্য। কিন্তু সেখানে এত বড় ঘটনা ঘটল আমাদের এত মেম্বার আহত হল তার আধা ঘন্টা পরে পুলিশ গেছে। হয়তোবা পুলিশ যদি আরেকটু আগে যেত আমরা আরো কিছু ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পারতাম। 
ক্র্যাবের সাবেক সহ সভাপতি শাহীন আব্দুল বারী বলেন, এই নির্মম হামলার দায় ড্রিম হলি ডে পার্ক কর্তৃপক্ষ কোন ভাবেই এড়াতে পারে না। স্থানীয় এসব সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাদের যোগসাজস আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবী জানান তিনি। 
ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইকরামুল কবীর টিপু বলেন, সাংবাদিকদের পিকনিকের গাড়িতে হামলার ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। সরকারের ন্যুজ¦ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রমানই এটি। 
জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোমিন হোসেন বলেন, অবশ্যই এটা পুলিশের ব্যর্থতা চরম ব্যর্থতা। এসপি এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ধরনের পারফরমেন্স দেখাতে পারেনি। এই ঘটনায় তার যে পারফরমেন্স অবশ্যই এই দায় তাকেই নিতে হবে।
ক্র্যাবের সহ-সভাপতি জিয়া খান বলেন, এ ঘটনার কারণে আগামীতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন ২৬ জানুয়ারি ব্ল্যাকডে হিসেবে যেন ঘোষণা করে সেই দাবী জানান তিনি। 
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম-বিএসআরএফ সভাপতি মাসুদুল হক বলেন, আসামী ধরতে কেন মানববন্ধন করতে হবে। সরকার কি বাংলাদেশে নেই? যে সরকার বলছেন গণমাধ্যম কর্মীদেরকে স্বাধীনতা দেব।  আমরা প্রতিটি স্তরে স্তরে দেখছি বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের। সচিবালয় থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় আমলাতন্ত্র, এখনো কেন এটা হবে, প্রশ্ন রাখেন বিএসআরএফ সভাপতি। 
বিএসআরএফ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদল বলেন, ক্র্যাব পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দাবী না মানা পর্যন্ত ক্র্যাবের প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে আমরা আছি।
ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ বলেন, আমরা আমাদের কর্মস্থলে নিরাপদ নই। এসাইনমেন্টে গিয়েও নিরাপদ নই। যেখানে একটা সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যসহ হামলার শিকার হই, সেখানে রাষ্ট্র আমাদের কোথায় নিরাপত্তা দিবে। 
ডিফেন্স জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের (ডিজাব) সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সাংবাদিকরা কারো বন্ধু নয়। যে কারণে কোন ঘটনার শিকার হলে সাংবাদিকদের পাশে কেউ এগিয়ে আসেনা। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে হামলার ঘটনার মূল হোতাকে চিহ্নিত করা দাবি জানান তিনি। 
রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশনের (র্যাক) সভাপতি সাফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা সর্বস্তরে। আইনশৃঙ্খলার এমন নাজুক পরিস্থিতি যে, পরিবারসহ পিকনিকে গিয়েও মানুষ নিরাপত্তা পায় না।  
র্যাক সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক বলেন, এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুদ্ধ ও বিস্মিত। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে প্রশাসনকে।
পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআরএফ) সভাপতি খোন্দকার কাওছার হোসেন বলেন, বহুবার আবেদন নিবেদন করার পরেও কেন সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। কেন সাংবাদিক বারবার নির্যাতনের শিকার হবে হামলার শিকার হবে প্রশাসন কেন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না সেই প্রশ্ন রাখেন খোন্দকার কাওছার। 
পিআরএফ সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী বলেন, নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে সত্য ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে, আমাদের উপর যদি নির্যাতন নেমে আসে, তাহলে এটা মেনে নেয়া যায় না।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আজিজুল হাকিমসহ আরো অনেকে। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ডিআরইউ বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য আলী আজম, ডিআরইউ সাবেক সহ সভাপতি ওসমান গনি বাবুল, ক্র্যাবের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রাজী, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক  নেহাল  হাসনাইন, দফতর সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ইমু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান  (মাহমুদ সোহেল), আইন ও কল্যাণ সম্পাদক কালিমউল্লাহ্ নয়ন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিজান , কার্যনির্বাহী সদস্য আবু হেনা রাসেল ও মাহবুব আলম প্রমুখ।   
উল্লেখ্য,গত ২৬ জানুয়ারী ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে ক্র্যাবের পিকনিকের বাসে চাঁদার দাবীতে হামলা চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এতে অন্তত ১০ জন ক্র্যাব সদস্য আহত হন, যাদের চারজনের অবস্থা গুরুতর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নরসিংদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে এখন নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা। এঘটনায়  নরসিংদির মধাবদী থানায় একটি মামলা হয়েছে।

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!