আইন অপরাধ ডেস্ক: বহিরাগত এক প্রতারক ডেপুটেশনে এসে সিন্ডিকেট নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে আলোকিত বাংলাদেশ।
গুরুতর অসুস্থ অর্ধমৃত সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলমকে অন্ধকারে রেখে গত দুই বছর যাবত কৌশলে পত্রিকাটির আয় লুটে নিচ্ছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে জনৈক আবুল কালাম আজাদ নামের একজন এনজিও ঢাকা আহছানিয়া মিশনে হিসাব রক্ষক পদে চাকুরী পায়।
চাকুরীটি পেতে সহায়তায় করে আজাদের বন্ধু কোম্পানী সেক্রেটারি রফিকুজ্জামান। এবং নগদ সুবিধা নিয়ে নিয়োগ পত্রে সই করান এনজিওটির সাবেক ভাইসপ্রেসিডেন্ট কাজি শরিফুল আলম।
অভিযোগ রয়েছে হিসাব রক্ষক পদে চাকরি পেয়ে আজাদ লুটপাটের পরিকল্পনা নিয়ে আলোকিত বাংলাদেশে ডেপুটেশনে চলে আসে। কাজে যোগ দিয়েই তার বন্ধু রফিকুজ্জানের শলাপরামর্শে কৌশলে প্রতিষ্টানটির দখলদারিত্ব কায়েম করে লুটপাট শুরু করে। যা অব্যাহত আছে।
প্রতিষ্টানটির অর্থ লুটের তথ্য অর্ধমৃত গুরুতর অসুস্থ সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলম কিছুই জানেননা। কারণ তিনি কানে শুনতে ও বলতে পারেননা, চলাচলও করতে পারেননা।
কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলা হচ্ছে তিনি পদত্যাগ করেছেন। সম্পাদক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। এভাবেই চলছে গত ২ বছরের অধীক সময় ধরে। যা প্রতারণার কৌশল।
দেখ-ভালোর এই শুণ্যতার সুযোগে সম্পাদকের স্ক্যান সাইন ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে লুটে নিচ্ছে ডেপুটেশনে আসা প্রতারক আবুল কালাম আজাদ চক্র।
এদিকে আলোকিত বাংলাদেশ দখলদারিত্ব কায়েম করে সম্পাদক ও প্রকাশকের অনুমোদন না নিয়েই নিজের বেতন বাড়িয়ে নিচ্ছেন লাখ টাকার উপরে।
সাথে সহায়তাকারিদের মধ্যে কাউকে কাউকে দিয়েছেন ৬৫ হাজার টাকা।
জানা গেছে জীবনে কখনো সাংবাদিকতা না করেই সম্পাদক ও প্রকাশকের অনুমোদন না নিয়েই হিসাব রক্ষক পদ থেকে নিজে নিজেই পদোন্নতি নিয়ে হয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক।
এবং মালিক সেজে অফিস ভাড়া,আইটি খাতের চার্জ বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যাংক এ্যাকাউন্ট করেছেন, লুটেপুটে নিতে চেক স্বাক্ষরও করছেন আজাদ।
অনুসন্ধান করে জানা গেছে এসবই মালিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদ না নিয়েই করছেন. যা করার কথা বা অনুমোদন দেয়ার কথা মালিক কর্তৃৃপক্ষের বা পরিচালনা পর্ষদের তা জালিয়াতি-প্রতারণার মাধ্যমে আজাদ নিজেই করে যাচ্ছেন।
ডেপুটেশনে আসা একজন হিসাব রক্ষক প্রতিমাসে লাখ টাকা খরচ করে সারাক্ষণ একটি গাড়িও ব্যবহার করছে। এছাড়াও নানারকম প্রতিষ্টানের ব্লাঙ্ক ভাওচার এনে নিজের কাছে রেখে সারামাস বিপূল পরিমান টাকা নিজেই ইচ্ছে সতো বিল লেখে টাকা তুলে নিচ্ছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের অঙ্গ-প্রতিষ্টানে একজন বহিরাগত কর্মচারি ডেপুটেশনে কাজ করতে এসে মালিক হলেন কিভাবে?
এসব অবৈধ কর্মকান্ড করছেন কিভাবে? অফিসে ছোট-বড় পদে লোক নিয়োগ দিচ্ছেন কিভাবে?
কমিশন প্রদান ও পত্রিকায় করেসপন্ডডেন্ট নিয়োগ দিচ্ছেন কার অনুমোদনে?
অভিযোগ রয়েছে অবৈধ লেন-দেনের মাধ্যমে তিনি এসব অবৈধ কর্মকান্ড প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে করছেন।
এনজিও প্রতিষ্টান ঢাকা আহছানিয়া মিশনে হিসাব রক্ষক পদে আবুল কালাম আজাদের অস্থায়ী চাকুরী স্থায়ী না হয়ে আলোকিত বাংলাদেশে কিভাবে চাকুরী করছেন তা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।
যেহেতু তিনি হিসাব রক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ঢাকা আহছানিয়া মিশনের। চাকুরীও স্থায়ী নয়, চুক্তির মেয়াদও উওীর্ণ। আলোকিত বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলমের নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়ে গত ২ বছর যাবত জবর দখল করে লুটেপুটে খেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আলোকিত বাংলাদেশে বিগত সময়ে অডিট করতেও দেয়নি আজাদ। তার এই ক্ষমতার উৎস কি?
সুত্র জানায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান নিজে সুবিধা নিয়ে আজাদকে এসব অবৈধ কর্মকান্ডে ও লুটপাট করতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
গোলাম রহমানের এসব দিক নির্দেশনাও অবৈধ। এসব দিক নির্দেশনা একমাত্র এখতেয়ার রাখেন সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনিও নেই দুই বছরের অধিক সময় ধরে। কিন্তু প্রিন্টার্স রাইনে তার নাম ছেপে ব্রবসা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারকচক্র।
এদিকে তথ্য মন্ত্রনালয়ধীনে ডিএফপির হিসাবে প্রতিদিন ১ লাখ ৫১ হাজার কপি পত্রিকা ছাপার অঙ্গিকার করার বরখেলাপ করে প্রতিদিন ছাপছে মাত্র ২০০-৩০০ কপি। দেশের কোথাও এ পত্রিকা পাওয়া যায়না। হকারদের কাছেও থাকে না।
সরকারী বিজ্ঞাপনের সর্বোচ্চ রেট প্রতি কলাম ইন্চি ৯০০ টাকা করে নিলেও পত্রিকাটিতে ৮ম ওয়েজবোড অনুযায়ী বেতন-ভাতাভুক্ত নেই কোনো সংবাদকর্মি।
প্রশ্ন হচ্ছে পত্রিকাটিতে প্রতারণার ফিরিস্থি অনেক বড় হলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেনো নিতে পারছেনা ডিএফপি?
সুত্র জানায় ঢাকা আহছানিয়া মিশন (ডাম) আলোকিত মিডিয়া লিমিটেড করে পত্রিকাটি প্রকাশ করে। বর্তমানে এর পরিচালনা পর্ষদ নিস্ক্রিয়। শুরুতে এস আলম গ্রুপ থেকে ৫ বোটি টাকা বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবহার করছে।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের আলোকিত মিডিয়া লিমিটেড নামে আছে কাজে নাই। প্রশ্ন হচ্ছে আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের ব্যানারে প্রকাশিত দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের আয়-ব্যয় কোথায় যাচ্ছে, দেখাশোনার দায়িত্বে কে?
অভিযোগ রয়েছে আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের নামে থাকা ব্যাংক এ্যাকাউন্টে ১টি টাকাও জমা দেওয়া হচ্ছেনা কেনো?
খোজ নিয়ে জানা গেছে আলোকিত বাংলাদেশের নামে পৃথক ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলে নানাভাবে সমস্ত আয় লুটে খাচ্ছে-নিচ্ছে ঢাকা আহছানিয়া মিশনেরই বর্তমান চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান ও তার হিসাব রক্ষক আবুল কালাম আজাদ। এতে সহযোগীতা করছেন ঘুসে অডিট ঠিকাদার রফিকুজ্জামান।
খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের এক সময়ের আলোচিত দুর্নীতিবাজ প্রফেসর ড. গোলাম রহমান আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডারদের সাথেও প্রতারণা করেছেন। ভুয়া রেজুলেশন করে লুটে খাচ্ছেন।
জানা গেছে, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম সুস্থ অবস্থায় দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে অসুস্থতা জনিত কারণে গত ২ বছর আগে এপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
তবে তার এ পদত্যাগ সম্পর্কে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে কোনো তথ্য নাই। ডাম সুত্র জানায় কাজী রফিকুল আলমের পদত্যাগ নিয়ে ডাম প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান কৌশলী শয়তানী করে চলছেন।
লুটপাট করছেন নিজেরা আর পত্রিকার প্রিন্টার্স লাইনে গত ২ বছর যাবত নাম ছেপে দায়-ভার কাজী রফিকুল আলমের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন।
বাটপারের মুখোশ পড়া দুর্নীতিবাজ ভন্ড গোলামের গোপন নির্দেশনায় তার মাইম্যান আজাদ যা ইচ্ছে প্রতিষ্টানটিতে তাই করে যাচ্ছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমের রেখে যাওয়া সম্পদ লুটেপুটে-চেটে খাচ্ছেন গোলাম সিন্ডিকেট। অভিযোগের কোনো জবাব নাই।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :