লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রক্রিয়াজাত তৈরি সাদা চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনে অনেকেই এর বিকল্প খোঁজেন। অনেকেই ভাবেন চিনি ছেড়ে মধু খেলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তুপুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, স্বাদে মিষ্টি হলেও চিনি আর মধুর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধু এবং চিনি উভয়ই কার্বোহাইড্রেট এবং মূলত গøুকোজ ও ফরুক্টাজের সমন্বয়ে গঠিত। তবে এদের গঠন ও পুষ্টির ধরনে কিছু সূক্ষ্ম তফাত রয়েছে। যেমন- পুষ্টি উপাদানের পার্থক্য: চিনি: চিনি পুরোপুরি প্রক্রিয়াজাত একটি উপাদান। এতে কোনো ভিটামিন বা খনিজ থাকে না, কেবল `এম্পটি ক্যালোরি` থাকে।
মধু: মধু একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এতে ক্যালোরির পাশাপাশি সামান্য পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং এনজাইম থাকে। তবে এই পুষ্টি পেতে হলে প্রচুর পরিমাণে মধু খেতে হয়। কিন্তু বেশি খেলে ক্যালোরির ঝুঁকি বাড়ে।
গøুাইসেমিক ইনডেক্স-চিনির তুলনায় মধুতে গøাইসেমিক ইনডেক্স সামান্য কম থাকে। এর ফলে চিনি খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা যতটা দ্রæত বাড়ে, মধুর ক্ষেত্রে সেই গতি কিছুটা কম। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনির চেয়ে সামান্য ভালো হলেও পুরোপুরি বলা যায় না।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের গুণগত মধুতে পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। চিনির মধ্যে কোনো ধরনের ঔষধি গুণ নেই।
মধু খাওয়ার বিশেষ কিছু সতর্কতা
বিজ্ঞান বলছে, ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি মধুর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন-বেশি ক্যালোরি: এক টেবিল চামচ চিনিতে থাকে প্রায় ৪৯ ক্যালোরি থাকে। অন্যদিকে এই পরিমাণ মধুতে ক্যালোরি থাকে ৬৪। এ কারণে মধু বেশি খেলে ওজন দ্রæত বাড়তে পারে।
দাঁতের ক্ষতি: মধুর গঠন আঠালো হওয়ায় এটি চিনির চেয়েও বেশি সময় দাঁতের সংস্পর্শে থাকে, যা থেকে ক্যাভিটি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
শিশুদের জন্য ঝুঁকি: এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধু খাওয়ানো একেবারেই উচিত নয়। এতে বিষক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চিনির বিকল্প হিসেবে মধু কি ভালো?
পুষ্টিবিদদের মতে, যদি প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিতে চান, তাহলে চিনির চেয়ে মধু ভালো বিকল্প, কিন্তু এটি `সেরা` নয়। কারণ মধুও এক প্রকার প্রাকৃতিক চিনি।
কাদের জন্য মধু ভালো? সাধারণ সর্দি-কাশির সমস্যায় ভুগলে মধু খাওয়া ভালো।
যারা শরীরকে ডিটক্স করতে চান তারা লেবু-মধু পানি খেতে পারেন।
যারা কৃত্রিম চিনির বদলে প্রাকৃতিক স্বাদ নিতে চান তারা মধু খেতে পারেন। মধু চিনির চেয়ে একটু ধীর গতিতে রক্তে শর্করা বাড়ালেও এটি সুগার লেভেল বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মধু খাওয়া ঠিক নয়।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :