লাইফস্টাইল ডেস্ক: অনেকের দিনের শুরু করেন ডিম দিয়ে। সকালের নাশতায় গরম গরম অমলেট, পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে ডিম ভাজি কিংবা ঝটপট তৈরি স্ক্র্যাম্বলড এগস ডিম ছাড়া অনেকের যেন চলেই না। কেউ খান পাউরুটির সঙ্গে, কেউ আবার পরোটা দিয়ে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি সহজেই পেট ভরায়, শরীরে জোগায় প্রোটিন। কিন্তু ডিম কীভাবে রান্না করছেন, তার ওপরও নির্ভর করতে পারে খাবারটি কতটা স্বাস্থ্যকর হবে।
বিশেষ করে রান্নার সময় তেল, মাখন কিংবা পনিরের ব্যবহার বেশি হলে বদলে যেতে পারে ডিমের পুষ্টিগুণের হিসাব। তাই স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখতে চাইলে শুধু ডিমের দিকে নজর দিলেই হবে না, নজর দিতে হবে রান্নার পদ্ধতিতেও।
সম্প্রতি এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট চিকিৎসক পাল মণিক্কামের পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি ডিম খাওয়ার ছয়টি জনপ্রিয় পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে সেদ্ধ ডিম। অন্যদিকে, রেস্তোরাঁর ধাঁচে তৈরি মসলাদার অমলেট রয়েছে তালিকার একেবারে শেষে।
১. সেদ্ধ ডিম-স্বাস্থ্যকরভাবে ডিম খেতে চাইলে সেদ্ধ ডিম হতে পারে সহজ পছন্দ। এতে রান্নার জন্য আলাদা করে তেল, মাখন কিংবা ঘি যোগ করতে হয় না। তৈরি করাও সহজ, আবার অফিসে কিংবা বাইরে যাওয়ার সময় সঙ্গে নেয়াও যায়। সকালের নাশতা, বিকেলের হালকা খাবার কিংবা ব্যস্ত দিনের দ্রুত ক্ষুধা মেটাতে সেদ্ধ ডিম বেশ সুবিধাজনক। তবে ডিম সেদ্ধ করার সময় অতিরিক্ত লবণ যোগ না করাই ভালো।
২. পোচ ডিম-ডিম পোচ করতে সাধারণত তেলের প্রয়োজন হয় না। গরম পানিতে ডিম রান্না করেই তৈরি করা যায় এই পদ। ফলে রান্নায় বাড়তি চর্বি যোগ করার প্রয়োজন পড়ে না। যারা কম তেলে খাবার খেতে চান, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে ভালো বিকল্প। তবে ডিমটি যেন যথেষ্ট ভালোভাবে রান্না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
ডিমের কুসুম অক্ষত রেখে এক পাশ ভেজে তৈরি করা হয় সানি-সাইড-আপ। দেখতে আকর্ষণীয় এই পদটি তৈরি করতে তেল ব্যবহার করা হয়। তবে কতটা তেল ব্যবহার করছেন, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। প্যানে অল্প তেল ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি যোগ হওয়ার পরিমাণ কমানো যায়। অর্থাৎ, পছন্দের এই পদটি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই বরং রান্নার ধরনে আনতে পারেন সামান্য পরিবর্তন।
৪. স্ক্র্যাম্বলড এগস-ডিম ফেটিয়ে নেড়েচেড়ে রান্না করলেই তৈরি স্ক্র্যাম্বলড এগস। ঝটপট তৈরি করা যায় বলে অনেকের কাছেই এটি জনপ্রিয়। চিকিৎসক পাল মণিক্কামের তালিকায় এই পদ রয়েছে চতুর্থ স্থানে। তবে রান্নার সময় বেশি তেল, মাখন কিংবা ক্রিম যোগ না করাই ভালো। কম আঁচে অল্প তেল দিয়ে রান্না করলে বাড়তি চর্বি গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
৫. সাধারণ ডিম ভাজি -পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা দিয়ে তৈরি অমলেট বাঙালির নাশতায় বেশ পরিচিত। কিন্তু অমলেট স্বাস্থ্যকর রাখতে তেলের পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অমলেট তৈরিতে অল্প তেল ব্যবহার করুন। বাড়তি মাখন কিংবা পনির যোগ না করলেও স্বাদ বজায় রাখা সম্ভব। চাইলে পেঁয়াজ, টমেটো ও অন্যান্য সবজি দিয়ে পুষ্টিকর উপকরণও বাড়িয়ে নিতে পারেন।
৬. রেস্তোরাঁর মত মসলাদার অমলেট-তালিকার শেষ স্থানে রয়েছে রেস্তোরাঁর ধাঁচে তৈরি মসলাদার অমলেট। কারণ, এ ধরনের অমলেট তৈরিতে কখনো কখনো দুই থেকে তিন টেবিল চামচ তেল ব্যবহার করা হতে পারে। ঘি বা মাখন দিয়ে তৈরি ডিম ভুর্জিতেও বাড়তি চর্বি যোগ হতে পারে। অবশ্য সব রেস্তোরাঁর অমলেটেই যে এত তেল ব্যবহার করা হয়, তা নয়। রান্নার পদ্ধতি ও উপকরণের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। তবে বাইরে খাওয়ার সময় খাবারে কতটা তেল বা মাখন ব্যবহার হয়েছে, তা সব সময় বোঝা যায় না। তাই নিয়মিত খাওয়ার ক্ষেত্রে কম তেলে তৈরি বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।
স্বাস্থ্যকর ডিম ভাজি খাওয়া বন্ধ -ডিম ভাজি কিন্তু বন্ধ করতে হবে না। ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে চাইলে পছন্দের পদ পুরোপুরি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই। বরং রান্নায় কতটা তেল, মাখন, ঘি কিংবা পনির ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।
মনে রাখতে হবে, রান্নার পদ্ধতি ছাড়াও ডিমের পরিমাণ, সঙ্গে খাওয়া অন্যান্য খাবার এবং ব্যক্তির সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সেদ্ধ ডিম খেলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে, এমন নয়। আবার অমলেট বা ডিম ভাজি খেলেই তা অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :