ডেইলি খবর লাইফস্টাইল ডেস্ক: মানুষের সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সঠিক খাবারের ওপরে। প্রায়ই বলা হয়, সুস্থ থাকতে সকালে খেতে হবে বেশি করে। কিন্তু সকালে ঘুম ভাঙার পরই ভরপেট খাবার খেলে আরও বেশকিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার অন্যতম শর্ত হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। আপনি কী খাচ্ছেন, কতটুকু খাচ্ছেন এবং কোন সময়ে খাচ্ছেন-এসব বিষয়ই শরীরের সুস্থতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যখন যা ইচ্ছা, তা খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করা জরুরি।
১. আমন্ডের গুণাবলী সম্পর্কে এ যুগে সকলেই অবগত। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন সকালে তিন থেকে পাঁচটা আমন্ড খেলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে শুকনো নয়। আগেরদিন রাতে ভেজানো আমন্ড, খোসা ছাড়িয়ে পরেরদিন সকালে খেতে বলছেন তারা।
২. সকালে উঠে উষ্ণ পানিতে এক চা চামচ মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে খান। এতে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরে যায়। বিপাকের হারও বাড়ে।
৩. থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে জিরা ভিজানো পানি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আগের দিন রাতে এক গ্লাস পানিতে জিরা ভিজিয়ে রাখুন। পরেরদিন সকালে জিরাটুকু সরিয়ে পানিটা খালি পেটে খেলে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকবে।
৪. কাঁচা পেঁপের মতো পাকা পেঁপের বহু গুণ রয়েছে। সকালে খালি পেটে কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকে। কম ক্যালোরিযুক্ত ফল হওয়ায় হজমেও সাহায্য করে পাকা পেঁপে।
৫. ভিটামিন সি-এ ভরপুর আমলকি অনেকেই সেদ্ধ করে খান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সেদ্ধ করে খেলে এর গুণাবলী শরীরে কোনও কাজে আসে না। তাই কাচা আমলকি সকালে খালি পেটে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
৬. ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। তাই সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম বা অমলেট রাখতে পারেন। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে না এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
৭. অনেকে নাশতায় দুধ বা টকদইয়ের সঙ্গে ওটস খান। তবে ওটস ও পাকা কলা দিয়ে পরিজ তৈরি করে খেলে তা আরও উপকারী হতে পারে। এটি শরীরে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে।
পরিজ তৈরির জন্য প্রথমে কড়াইয়ে ওটস হালকা ভেজে নিন। এরপর দুই কাপ পানি দিয়ে রান্না করুন। কিছুটা ঘন হলে আধা কাপ দুধ যোগ করুন। এরপর দুই চামচ গুড় বা মধু মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। ঠান্ডা হলে ওপরে আমন্ড, কাজু কিংবা ইচ্ছেমতো কলা ও আপেল কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন।
৮. সকালের নাশতায় অবশ্যই মৌসুমি ফল রাখা উচিত। অনেকের ধারণা, খালি পেটে ফল খাওয়া ঠিক নয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর বা উপোস ভাঙার সময় ফল খাওয়া উপকারী।
ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার ও পানি থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। সংগৃহীত ছবিছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :