ডেইলি খবর লাইফস্টাইল ডেস্ক: অনেকেরই দিনের শুরু হয় এক কাপ গরম দুধ চা দিয়ে। ঘুম কাটানো থেকে শুরু করে কাজের মন বসাতে চা লাগেই অনেকের। তবে অনেকেই স্বাদ বাড়ানোর আশায় দুধ চা দীর্ঘ সময় ধরে ফুটিয়ে তৈরি করেন। কিন্তু জানেন কি, এই অভ্যাসই চায়ের পুষ্টিগুণ কমিয়ে দিতে পারে, বাড়াতে পারে হজমের সমস্যা, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?
চা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। শুধু স্বাদের জন্য নয়, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদানের কারণেও এটি স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায়, পুষ্টিবিদদের মতে, চা তৈরির পদ্ধতি ঠিক না হলে এর উপকারিতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। পুষ্টিবিদ প্রিয়া পালনের মতে, চায়ে থাকা ক্যাটেচিন, থিয়াফ্লাভিন, ট্যানিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড-এর মতো পলিফেনল শরীরের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, চা পাতা প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ উপকারী উপাদান পানিতে ছড়িয়ে দেয়। এর পর অনেকক্ষণ ফুটতে থাকলে এসব উপাদান অক্সিডাইজ হতে শুরু করে এবং চায়ের গুণাগুণ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি চায়ের স্বাদও তেতো হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ইয়থার্থ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডায়েটেটিকস বিভাগের প্রধান সুহানি সেঠ আগারওয়ালের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে দুধ চা ফুটালে চায়ের সূক্ষ্ম স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। চা পাতা অতিরিক্ত তেতো উপাদান ছেড়ে দেয় এবং দুধেও পোড়া স্বাদ চলে আসতে পারে। ফলে চায়ের স্বাভাবিক স্বাদ ও সুগন্ধ দুটিই নষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চা পাতাকে অতিরিক্ত সময় ধরে ফুটিয়ে রাখার কোনো অতিরিক্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা নেই। বরং কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় উপাদান বের হয়ে আসে। তাই অযথা দীর্ঘ সময় ধরে দুধ চা ফুটানোর বদলে স্বাভাবিক সময়ে চা তৈরি করাই ভালো।
দীর্ঘ সময় ধরে দুধ ফুটলে ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন সি-এর মতো কিছু তাপ-সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান নষ্ট হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ সময় ধরে দুধ ফুটলে ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন সি-এর মতো কিছু তাপ-সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান নষ্ট হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত ফুটানো দুধ চায়ের সম্ভাব্য ক্ষতি-১. পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে
দীর্ঘ সময় ধরে দুধ ফুটলে ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন সি-এর মতো কিছু তাপ-সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান নষ্ট হতে পারে।
২. চায়ের স্বাদ নষ্ট হয়
বেশি সময় ফুটলে চা তেতো হয়ে যায় এবং দুধে পোড়া স্বাদ চলে আসে, যা পানীয়টির স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট করে।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ কমে যেতে পারে
অতিরিক্ত তাপে চায়ের ক্যাটেচিন ও পলিফেনলের মতো উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভেঙে যেতে পারে। ফলে চায়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা কমে যায়।
৪. ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা
উচ্চ তাপে দুধের ল্যাকটোজ ও প্রোটিনের মধ্যে মেইলার্ড বিক্রিয়া ঘটতে পারে, যার ফলে কিছু অবাঞ্ছিত রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত গ্রহণ করলে এগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৫. হজমের সমস্যা হতে পারে
অতিরিক্ত তাপে দুধের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হতে পারে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা হতে পারে। আবার অনেকের গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়।
৬. অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়তে পারে
দীর্ঘ সময় ধরে ফুটানো দুধ চায়ের অম্লতার মাত্রা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে যাদের অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাদের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দিনে অতিরিক্ত দুধ চা পান করাও ভালো নয়। কারণ চায়ে থাকা ট্যানিন শরীরে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে বা খাবার খাওয়ার পরপরই চা না খাওয়াই ভালো। আর স্বাদ বাড়াতে দীর্ঘ সময় ধরে চা ফুটানোর বদলে পরিমিত সময়ে তৈরি চা পান করলেই এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুটিই বজায় রাখা সম্ভব। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :