বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

বৈশাখে পান্তা ভাত: উপকারিতা কী? খাওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ পুষ্টিবিদের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

বৈশাখে পান্তা ভাত: উপকারিতা কী? খাওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ পুষ্টিবিদের

লাইফস্টাইল ডেস্ক: পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। দিনটির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ভাত এবং ইলিশ মাছ। গ্রাম-বাংলায় চৈত্রের তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার হিসেবে আগের দিনে ভাত পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার প্রচলন থেকেই মূলত এই পান্তা ভাতের শুরু। সময়ের সঙ্গে এটি নববর্ষ উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বাঙালির পছন্দের খাবার হিসেবে তো রয়েছেই।
বৈশাখের দিন আর বিভিন্ন সময় পান্তা ভাত খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। এর উপকারিতার কথা মুখে মুখে শোনা যায় বলেই সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন বেশি। পান্তা ভাতের উপকারিতা ও সতর্কতা সম্পর্কে চ্যানেল ২৪ অনলাইনকে জানিয়েছেন রাজধানীর ওয়ারীর ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা।
এ পুষ্টিবিদ বলেন, পান্তা ভাতের অবশ্যই কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, সহজে হজম হয়, পেট ঠান্ডা রাখে অর্থাৎ গাট হেল্থের জন্য উপকারী এবং এতে ফার্মেন্টেশনের কারণে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়; যা অন্ত্রের পরিবেশের জন্য উপকারী। পাশাপাশি পান্তা ভাতে কিছু বি-ভিটামিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে এবং পানির উপস্থিতির কারণে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক। বিশেষত বৈশাখের তাপদাহে প্রশান্তি আনতে সহায়ক একটি পদ এই পান্তা ভাত।
পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা বলেন-পান্তা ভাত খাওয়ার  আগে কিছু সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি। এটি দীর্ঘ সময় বাইরে রাখলে, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং পান্তা ভাতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করে। এ জন্য পরিষ্কার পানিতে ভাত ভিজিয়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। গরমে বেশি সময় সংরক্ষণ করতে হলে ফ্রিজে রাখা নিরাপদ এবং খাওয়ার আগে গন্ধ বা স্বাদ পরিবর্তন হয়েছে কিনা, সেটি যাচাই করে দেখে নেয়া উচিত।
এদিকে পান্তা ভাত উপকারী হলেও সবাকে খেতে নিষেধ করেছেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা। তিনি জানান, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, অম্বল বা গ্যাসট্রিকের সমস্যা আছে, ডায়রিয়ায় ভুগছেন বা অন্ত্রের গোলযোগ রয়েছে, তাদের পান্তা ভাত এড়িয়ে চলাই উত্তম। ছোট শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার আগে সতর্কতা বজায় রাখা উচিত বলেও জানালেন এ পুষ্টিবিদ।
এছাড়াও এ পুষ্টিবিদ বলেন-পান্তা ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিক থেকেও সচেতনতা প্রয়োজন। দিনে এক বেলা ১ থেকে ১.৫ কাপ পরিমাণ পান্তা ভাত খাওয়া যথেষ্ট। মনে রাখতে হবে, যেকোনো খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করা ঠিক নয়। কেননা, অতিরিক্ত খাওয়া হলে পেটের অস্বস্তি হতে পারে, বদহজমের মতো সমস্যাও তৈরি হয়। তবে পান্তার সঙ্গে লবণ, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ বা ভর্তা পরিমিতভাবে খাওয়া ভালো। কাঁচা মরিচ ভিটামিন ‘সি’-এর ভালো উৎস এবং একইসঙ্গে আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট দিয়ে থাকে। পেঁয়াজও আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট গুণসম্পন্ন ও আ্যন্টিইনফ্লামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ।সবশেষ মনে রাখা জরুরি, পান্তা ভাত বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতীক হলেও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করে খাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর। সংগৃহীত ছবি

 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!