মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

এবার দেশ ছেড়েছেন কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই প্রসিকিউটর

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:২০ পিএম

এবার দেশ ছেড়েছেন কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই প্রসিকিউটর

আইন-অপরাধ ডেস্ক: ‘কোটি টাকা ঘুস চাওয়া’র অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্ত চলার মধ্যেই সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। গত ৩১ অক্টোবর সাইমুম দেশ ছাড়েনএ বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকরা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চান।

জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, সাইমুমের বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাই তিনি কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই।

এদিকে, দেশ ছাড়ার বিষয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাইমুম রেজা তালুকদার। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘কিছুই জিজ্ঞেস করে নাই। এসব নিউজ আর করার দরকার নাই ভাই, আমার মেজাজ গরম।’

ইতালি যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কে বলছে ইতালি চলে গেছি? আমার এসব নিয়া কথা বলার ইচ্ছা নাই।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থয়ের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে সাইমুমের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাকে ওই মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। তবে ট্রাইব্যুনালের অন্য দায়িত্বে বহাল ছিলেন তিনি।

পরে গত ৯ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বরাবর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন সাইমুম। আমিনুল ইসলাম আবেদনটি মঞ্জুর করে মন্ত্রণালয়ে পাঠান। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের আদেশে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই সাইমুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।’

ঘুস চাওয়ার অভিযোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমাণিত হয়েছে বলে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ঘুস দেওয়া ও নেওয়া দুটিই অপরাধ। যারা তাকে অর্থ দিয়ে থাকবেন, তাদেরও দায় রয়েছে।

ঘুসের অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হওয়ার পর গত ১০ মার্চ আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। সাইমুমের বিরুদ্ধে ঘুস চাওয়ার অভিযোগসহ পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।

কমিটি ১১ মার্চ প্রথম বৈঠক করলেও গত আট মাসে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। প্রতিবেদন দিতে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তিনিও কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এ ছাড়া কমিটির আরেক প্রসিকিউটর তার মায়ের মৃত্যুর কারণে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।’

সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অন্য অভিযোগগুলোও কমিটি খতিয়ে দেখছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম। নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে না পারলেও যত দ্রুত সম্ভব প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!