সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজী নজরুল এমপির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০২:১১ পিএম

গাজী নজরুল এমপির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

আইন-অপরাধ ডেস্ক: দল থেকে বহিস্কৃত জামায়াতে বাসলামীর এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

শেরেবাংলানগর থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তারা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করবেন।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার এজাহারে সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন।

এর মধ্যে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল কল করে বাদী মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন।মামলার এজাহারে তিনি লিখেছেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান তিনি।

একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হইৃতা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নইৃ।’আরেকটি চিরকুটে লেখা, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে।

জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমি তো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’
আরেকটি চিরকুটে লেখা, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এরৃ!!! আর আমি ছিলাম বোকাৃ!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষৃ!!!’অপর একটিতে লেখা, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়ৃভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!