আইন-অপরাধ ডেস্ক: খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের এক সময়ের আলোচিত দুর্নীতিবাজ সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান ঢাকা আহছানিয়া মিশনে ইঁদুর-বিড়াল খেলায় আছেন। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা না থাকলেও এবার তিনি নিজেই ডামের আলোকিত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হয়েছেন।
একারণেই এবারের ইঁদুর-বিড়ালের খেলাটা মজার বটে। পদত্যাগের তথ্য প্রায় ৩ বছর গোপন করে ডামের অঙ্গ-প্রতিষ্টান আলোকিত বাংলাদেশে অর্ধমৃত ব্যক্তি কাজি রফিকুল আলম-এর নাম প্রিন্টার্স লাইনে সম্পাদক ও প্রকাশক হিসাবে ছেপেছেন। কাজটি ছিল গুরুতর অসুস্থ ও অর্ধমৃত ব্যক্তির সাথে চরম অন্যায় ও অমানবিক প্রতারণা। গুণাহর কাজ।
এদিকে সুত্র জানায় গোলাম সিন্ডিকেট এসময়ে পত্রিকাটিতে সরকারি বিজ্ঞ্পানের বিল বাবদ ১২-১৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। এবার প্রিন্টার্স লাইন থেকে কাজি রফিকুল আলমকে সম্পাদকের পদ থেকে বাদ দিয়ে প্রকাশক করা হয়েছে। এবং ডামের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান নিজেই হয়েছেন এবার পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক।
ডামে ঢুকে অল্প সময়ে ৭০ বছরের ঐতিহ্যবাহি প্রতিষ্ঠানে একের পর এক দারুণ চমক দেখাচ্ছেন ড. গোলাম রহমান।
প্রশ্ন হচ্ছে একজন অর্ধমৃত ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতারনার শেষ কোথায়? গুরুতর অসুস্থ জবান বন্ধ থাকা অর্ধমৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গোলামের এমন জুলুম অত্যাচার-মিথ্যাচার বন্ধ হবে কবে? অর্ধমৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশক হিসাবে ছেপে এবারও অপরাধের পারদ উপড়ে নিচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে নিজেদের সমস্ত অপরাধের দায় প্রকাশকের উপর দিয়ে নিজেরা থাকছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে?
এদিকে ড.গোলাম রহমান ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন কিভাবে? কে দিলেন? মারা না গেলে কিংবা অব্যাহতি না নিলে সম্পাদক ও প্রকাশক ছাড়া অন্য কেউ এ দায়িত্ব দেওয়ার এখতেয়ার কারোর নাই।
প্রশ্ন হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের নিয়োগ কি অর্ধমৃত ব্যক্তি সম্পাদক ও প্রকাশক কাজি রফিকুল আলম দিয়েছেন?
ড.গোলাম রহমানের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করার মতো অবস্থায় তিনি আছেন? নাকি আলোকিত মিডিয়া লিমিটেড দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের নিয়োগ? এলোমেলো কাজগুলো যেনো ইঁদুর বিড়ালের দৌড়াদৌড়ি। তবে এখন পাওনাদারদের পাওনা আদায়ে সুবিধা হয়েছে।
সংবাদপত্রের সরকারি নিয়মনীতি বিধিবিধান সবই এখানে অনপোস্থিত রেখে ডামকে বোকা বানিয়ে বা নির্বাহী কমিটিকে বোকা ভেবে শাক দিযে মাছ ঢাকার কাজগুলো গোলাম রহমান করছেন। একজন পেশাদার সাংবাদিককে সম্পাদক নিয়োগ না দিয়ে গোলাম রহমান নিজেই ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়া রহস্যজনব।
দেশের তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ধ্বংসকারী ফ্যাসিবাদের শাসনামলের প্রধান বিচারপতি ফ্যাসিবাদের খুব কাছের দোসর এবিএম খায়রুল হকের হাত ধরে খুবির ওই দুর্নীতিবাজ গোলাম রহমান কৌশলে ঢাকা আহছানিয়া মিশনে সহ-সভাপতির পদে ঢুকে পরেন। এরপর চেয়ারে থাকা সভাপতি কাজি রফিকুল আলমকে হটিয়ে সভাপতির পদ দখল করে সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে স্বৈরাচার আচরন করার সাথে ইঁদুর-বিড়াল খেলাও শুরু করেন।
সুত্র জানায় এবার ইঁদুর-বিড়াল খেলা সাঙ্গ করতে এবছর ডিসেম্বর মাসে সরে যাওয়ার জন্য উমি চাঁদ ও রায় বল্লভের মতো ডায়লগ ছাড়ছেন। বলছেন এবার ডামের জন্য নতুন সভাপতি আনেন?
আসলে একথা তার মনের নয়। এর আগে ঘোষনা দিয়েছেন আমৃত্যু তিনি ডামের এপদে থাকবেন। সাথে থাকবে বাটপার-চোর সিন্ডিকেটও।
ফ্যাসিবাদের দোসর দুর্নীতিবাজ গোলাম ডামের চেয়ার দখল করে কখনো ইঁদুরের মতো গোলায় বসে ধান খাচ্ছেন, কখনো বিড়ালের মতো মাছ-মাংস খাচ্ছেন।
সাঙ্গ-পাঙ্গর চক্র নিয়ে এভাবেই ঢাকা আহছানিয়া মিশনের ৭০ বছরের ঐতিহ্য-সুনাম ধ্বংশ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা তৈরি করেিেছলেন সাবেক সভাপতি কাজি রফিকুল আলম। এসব অভিযোগ নিয়ে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননা।
বিদায় নেওয়ার কথা বলে এবার সাবেক সম্পাদক কাজি রফিকুল আলমের হাতে গড়া প্রতিষ্টান আলোকিত বাংলাদেশের ভাপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে ষোল কলা পূর্ণ করলেন গোলাম রহমান। এমন মেধাবীকে ডামের কর্মিরা অভিনন্দন বাহ বাহ না জানিয়ে উপায় নেই!

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :