বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

এমপি আনার হত্যায় রোমহর্ষক গ্যাস বাবুর জবানবন্দিতে

আইন-অপরাধ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৪, ০৩:১৭ পিএম

এমপি আনার হত্যায় রোমহর্ষক গ্যাস বাবুর জবানবন্দিতে

 এমপি আনার হত্যায় রোমহর্ষক গ্যাস বাবুর জবানবন্দিতে। হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ ওরফে গ্যাস বাবু। জবানবন্দিতে তিনি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার অপহরণ ও গুমের মামলায় গ্রেফতার কাজী কামাল এরআগে গত ১৪ জুন শুক্রবার ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালতে জবানবন্দি দেন। 
এর আগে গত ৯ জুন গ্রেফতারের পর তিনি সাত দিনের রিমান্ডে ছিলেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজী কামালের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও আদালত সূত্র জানায়, কাজী কামাল ওরফে গ্যাস বাবু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন,এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনার সময় ও হত্যার পর মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে তার একাধিকবার বৈঠক হয়। বৈঠকে হত্যার জন্য করা চুক্তির টাকার একটি অংশ সাইদুল করিম মিন্টুর কাছ থেকে নিয়ে হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াকে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। এ জন্য এমপি খুনের পর আমানুল্লাহর সঙ্গে তার (কামাল) একাধিকবার মোবাইলে কথা হয় এবং সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু টাকা নিয়ে দেওয়ার আগেই গ্রেফতার হন আমানুল্লাহ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তাদের তথ্যে জানা গেছে, এমপি আজিমকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আক্তারুজ্জামান শাহীন পাঁচ কোটি টাকায় খুনি ভাড়া করেছিলেন। কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনসে শাহীনের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে গত ১৩ মে এমপি আজিম খুন হন।
কাজী কামাল জবানবন্দিতে বলেছেন, এই মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন। ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্ধের কারণে এই খুনের পরিকল্পনা হয়। শাহীন পরিকল্পনা করলেও স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগিতা চান। আনোয়ারুল আজীম বারবার এমপি হওয়ায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু মনে মনে ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাই মিন্টু তাকে (কাজী কামাল) নিয়ে আক্তারুজ্জামান শাহীনের ডাকে সাড়া দেন। শাহীন এমপি আনোয়ারুলকে শেষ করে দিতে পারলে সেখানে মিন্টুর এমপি হওয়ার স্বপ্নপূরণ হবে।
তিনি আরও বলেন, এমপিকে কলকাতায় খুন করার পর আমানুল্লাহ ১৫ মে ঢাকায় ফিরে ১৬ মে তার (কাজী কামাল) সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কথা বলেন। ১৭ মে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে আমানুল্লাহর গাড়িতে তাঁর সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। তখন আমানুল্লাহ তার মোবাইলে এমপি আজিমের লাশের ছবি দেন। খুনের জন্য চুক্তির টাকার একটি অংশ কবে পাবেন, জানতে চান আমানুল্লাহ। তিনি (কাজী কামাল) ওই টাকা সাইদুল করিম মিন্টুর কাছ থেকে নিয়ে ২৪ মে তাকে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু তার আগেই গ্রেফতার হন আমানুল্লাহ। আমানুল্লাহর কাছ থেকে এমপির লাশের ছবি পাওয়ার পর তিনি চলে যান সাইদুল করিম মিন্টুর কাছে। মিন্টু তার মোবাইল থেকে ছবি নিজের মোবাইলে না নিয়ে তার তিনটি মোবাইলই নিয়ে নেন। মিন্টু পরে জানান, ওই তিন মোবাইল হারিয়ে গেছে এবং তাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!