বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পদের টিলা-পাহাড় অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

সম্পদের টিলা-পাহাড় অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের

আইন-অপরাধ ডেস্ক: চাকরি জীবনে দেশ ও মানুষের ভুমি সেবা কতটুকু দিতে পেরেছেন তার তথ্য হইতো নেই। কিন্তু দুই হাত ভরে টাকা কামাই করে সম্পদের টিলা-পাহাড় তৈরি করেছেন সাব রেজিস্টাার নুরুল আমিন। অবসরে যাওয়ার পরে একজন চাকরিজীবীর অঢেল সম্পদের তথ্য নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক এখন খোজ-খবর নিচ্ছে।

জানা গেছে অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার খন্দকার নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। তিনি নামে-বেনামে শহরে-বন্দরে ও গ্রামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য। কানাঘুষা রয়েছে, ঢাকার মিরপুরে সাবরেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তার মাসিক অবৈধ কামাই ছিল ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মতো।

সব মিলিয়ে তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় শতকোটি টাকা ছুঁয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এত বিপুল পরিমাণ বিত্তবৈভব তিনি কীভাবে কামালেন, তার সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। আওয়ামী শাসনামলে ঘুেষ মুছ পাকিয়েছেন তিনি। ক্ষমতাধর এই সাবরেজিস্টার নুরুল আমিন ছিলেন আওযামী লগি সরকারের সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামের ডানহস্থ।

এদিকে বৈধ আয়ের সঙ্গে এই অঢেল সম্পত্তির হিসাব নানাভাবে এদিক-সেদিক করেও কিছুতেই মিলছে না। বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক); সরকারি চাকরির বেতনে এত সম্পদের পাহাড় গড়া আসলেই সম্ভব কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে তারা।

নুরুল আমিনের কাছের সুত্রগুলো জানায় টাঙ্গাইলে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও কোটি টাকার জমি রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পদ গড়েছেন নুরুল আমিন। সেখানে খাদ্যগুদাম-সংলগ্ন এলাকায় তার স্ত্রীর নামে পাঁচতলা দুই ইউনিটের একটি বাড়ি রয়েছে। ওই জমির আনুমানিক মূল্য দুই কোটি টাকা। এবং ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া একই এলাকায় খাদ্যগুদামের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন ৫ শতাংশ জমি রয়েছে তার, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। টাঙ্গাইলের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন ‘প্যারাডাইস শাহজাহান সিরাজ নিবাস’ ভবনের নিচতলায় পশ্চিম পাশের একটি ফ্ল্যাট বর্তমানে ‘স্বপ্ন’ সুপারশপকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ওই ভবনে তার আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে; যার মূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া ভিক্টোরিয়া রোডের দত্ত টাওয়ারে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দোকান এবং বাসাইলের বিয়ালা গ্রামে নিজ বাড়িতে আনুমানিক ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন রয়েছে তার।

এদিকে রাজধানীর পূর্বাচলে সাত কোটি টাকার প্লট, মিরপুরে দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে। সুত্র জানায় মিরপুর ১০ নম্বরে শাহ আলী মার্কেটেও দোকান ও অফিস থাকার তথ্য রয়েছে। বড় ভাই, বোন, ভাগনে, শাশুড়ি এবং শ্যালকদের নামেও জমি ও সম্পদ কিনেছেন নুরুল আমিন।

অর্জিত এই সম্পদ সম্পর্কে নুরুল আমিন প্রথমে এর সত্যতা স্বীকার করেন। তবে পরে কয়েকটি সম্পদের বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নুরুল আমিনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে-ঢাকার মিরপুর এলাকায় সাবরেজিস্ট্রার হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় নুরুল আমিন প্রতি মাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করতেন। ওই সময় তার একটি সিন্ডিকেট ছিল। চাকরি জীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠা এবং শাস্তিমূলক বদলির তথ্যও পাওয়া গেছে। পরে তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সাবরেজিস্ট্রার হিসাবে কর্মজীবন শেষ করেন।

আয়ের উৎসের ব্যাখ্যা দিতে পারেননি নুরুল আমিন। তবে সংবাদ কর্মিকে তিনি জানান, ২০০৯ সালে সাবরেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালে অবসরে যান। টাঙ্গাইলের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে এসব সম্পদ কবে কেনা হয়েছে, কীভাবে অর্থের সংস্থান হয়েছে এবং চাকরির আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য কতটুকুএর সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি নুরুল আমিন। গাড়িতে লোকজন থাকার কথা জানিয়ে পরে ফোন করে বিস্তারিত বলবেন বলে জানান। পরে আর জানাননি।

এদিকে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, নুরুল আমিনের সম্পদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। তার সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ও অর্থের উৎস নির্ধারণে জমির দলিল, ভবন নির্মাণের ব্যয়, ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন এবং চাকরি জীবনের আয়-ব্যয়ের তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক দলিল লেখক মনে করেন সাবরেজিস্টারদের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদ প্রকাশ করা হলেও কঠোর  শাস্তি না হওয়ায় ভালো পোষ্টিং খুজে সবাই। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!