শুক্রবার, ০৬ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

ভাই উপদেষ্টার এপিএস তাই গাড়িচালকও হয়েছেন কোটিপতি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

ভাই উপদেষ্টার এপিএস তাই গাড়িচালকও হয়েছেন কোটিপতি

ডেইলি খবর ডেস্ক: ড. ইউনূসের সাবেক অন্তর্বতী সরকারের এক ছাত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন ও রিয়াজুল ইসলামদের বাড়িতে নতুন ভবন হচ্ছে।এই এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাই রিয়াজুল ইসলাম। পেশায় ছিলেন একজন গাড়িচালক। তবে এখন সম্পত্তির কমতি নেই তার।
আগে মাস শেষে যা আয় হতো, তা দিয়েই চলত সংসার। কিন্তু মাত্র আট মাসে বদলে গেছে তার জীবনের হিসাব-নিকাশ।
২০২৪-২৫ কর বর্ষে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে রিয়াজুল ইসলাম তার ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। নথি অনুযায়ী, অর্জিত সম্পদের পুরোটাই তিনি অর্জন করেছেন ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে। এই আট মাস তার ছোট ভাই মোয়াজ্জেম সাবেক উপদেষ্টার এপিএসের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আয়কর নথি অনুযায়ী, রিয়াজুল এখন দুটি গাড়ির মালিক, ব্যাংকে রয়েছে মোটা অঙ্কের আমানত, কোটি টাকার ব্যাবসায়িক মূলধন। এর বাইরেও রয়েছে তার নামে-বেনামে সম্পত্তি।সম্পদের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় নিজের নাম-পরিচিতিও পরিবর্তন হয়েছে রিয়াজুলের।
এলাকায় রিয়াজুল ইসলামকে সবাই চেনেন ইলিয়াস মণ্ডল নামে।
আয়কর রিটার্ন জমা দিলেও দুদক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদ অর্জনের পক্ষে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে ইলিয়াস মণ্ডল কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি।
আয়কর নথিতে রিয়াজুল তার ব্যাবসায়িক মূলধন উল্লেখ করেন ৯৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। নথি ঘেঁটে দেখা যায়, রাজধানীর শ্যামলী শাখায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির ১৪৮১৫৮০০৮৪২৭৫ হিসাব নম্বরে তার ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৮ টাকা এফডিআর রয়েছে। এই এফডিআরে থাকা অর্থ অর্জনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে গত বছরের ১০ নভেম্বর।
এর ঠিক দুই দিন আগে একই হিসাব নম্বরের একটি সঞ্চয়ী আমানতে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৭ টাকা অর্জনের তারিখ উল্লেখ করেন তিনি।
গত বছরের ৩০ জুন রিয়াজুলের হাতে নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৩১ টাকা অর্জনের তথ্য দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্সে তার জমা রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯২ টাকা।
রিয়াজুল ও তার স্ত্রী সাথী খাতুনের নামে থাকা দুটি গাড়ি কিনেছেন। অন্তর্র্বতী সরকারের আমলেই কেনা হয়েছে এই দুই গাড়ি। রিয়াজুল তার নিজের নামে কেনা (নোয়া মাইক্রোবাস ঢাকা মেট্রো গ-৩১-৫২৯৮) গাড়িটির মূল্য আয়কর নথিতে দেখিয়েছেন ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। গাড়িটি তিনি কিনেছেন ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর। সাথী খাতুনের নামে থাকা আরেকটি প্রাইভেট কার রয়েছে, যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ-১২-৬৮৯৭। আয়কর নথিতে গাড়িটির মূল্য দেখিয়েছেন ১২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা; যেটি কেনা হয়েছে গত বছরের ৩০ জুন।
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার এপিএস মোয়াজ্জেমের ‘শতকোটি’ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আসে দুদকে। অভিযোগটি অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক, তবে অজ্ঞাত কারণে সেই অনুসন্ধান থেকে আছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বিষয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকের কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নাই। থাকলে দুদক তো মামলা করত।’ আয়কর নথিতে কোটি টাকার ব্যাবসায়িক মূলধন দেখানোর বিষয় জানতে চাইলে রিয়াজ বলেন, ‘এটা আসলে আইনজীবী করেছেন, আমি তো জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না।’সূত্র : আজকের পত্রিকা

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!