মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজউক প্লট বরাদ্দে অনিয়ম: সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

রাজউক প্লট বরাদ্দে অনিয়ম: সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

আইন-অপরাধ ডেস্ক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালাম এ রায় দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।

রায়ে রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দুই ধারায় তাদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ধারায় ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

একই দুই ধারায় শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাদেরও আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা আগে যে সময় কারাগারে ছিলেন, তা তাদের মূল দণ্ড থেকে বাদ যাবে। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই ধারা থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরের ৪০৫ নম্বর সড়কের ১১ ও ১৩ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে সেগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। তদন্ত শেষে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!