মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫, ২৯ বৈশাখ ১৪৩২

গণহত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে হাসিনার বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ

আইন-অপরাধ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৫, ০৪:৩৭ পিএম

গণহত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে হাসিনার বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।সোমবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। এই মামলার অভিযোগপত্রে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন-সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গণহত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে হাসিনার বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ-রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল, অধ্যাদেশ জারি তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী পাঁচটি অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগগুলোর মধ্যে দুটি অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাকিগুলো আপাতত সবার জন্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।প্রথম অভিযোগটি হচ্ছে,শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে রাজাকারের নাতিপুতি বলে উল্লেখ করেছিলেন। এটা বলার মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরপর তারা মানবতাবিরোধী এসব অপরাধগুলো করে। এই উসকানির দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে সেটা হচ্ছে সরাসরি নির্দেশ। তদন্ত সংস্থা শেখ হাসিনার অনেকগুলো টেলিফোন কনভারসেশন জব্দ করেছে। সেখানে তিনি বারবার সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন,রাষ্ট্রীয় সকল বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, হেলিকপ্টার, ড্রোন,এপিসিসহ মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র নিরীহ আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সরাসরি সেই নির্দেশের প্রমাণপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা হাতে পাওয়ার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এই দ্বিতীয় অভিযোগটি দাখিল করেছে।গতকাল সোমবার (১২ মে) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয় জুলাই গণহত্যা মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।এদিন সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটরসহ সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তা।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যায় শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, এটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন।এর আগে, গত ১৮ ফেব্রæয়ারি জুলাই গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!