বিনোদন ডেস্ক: দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের একসময়কার আলোচিত অভিনেত্রী সিল্ক স্মিতার মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্ণ হবে আর কিছু দিন পরই তবে আজও রহস্যেঘেরা তার চলে যাওয়া। ১৯৯৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের নিজ অ্যাপার্টমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ঠিক কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা নিয়ে এখনও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
মাত্র ৩৫ বছর বয়সে থেমে যায় সিল্ক স্মিতার জীবন। ক্যারিয়ারের ১৭ বছরে পাঁচটি ভাষায় অভিনয় করেন ৪৫০টিরও বেশি সিনেমায়। পর্দায় তার আবেদন ও জনপ্রিয়তা তাকে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত করেছিল। এমনকি এমন একটা সময় ছিল যখন সিল্কে ভারতীয় সিনেমার ‘ম্যারিলিন মনরো’ও বলা হতো।
তবে এই অভিনেত্রীর জীবন কিন্তু সহজ ছিল না। তিনি কোনও স্টারকিড ছিলেন না এমন কি তার ক্যারিয়ার শুরু করার সময় কারোর সাহায্য পাননি তিনি। সিল্ক অন্ধ্রপ্রদেশের একটি দরিদ্র তেলুগু পরিবারে জন্ম নেন এবং তার আসল নাম ছিল বিজয়লক্ষ্মী ভাদলাপতি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে খুব কম বয়সে তার বিয়ে হয়ে যায়। শোনা যায় চতুর্থ শ্রেণির পরই পড়াশোনা ছাড়তে হয় তাকে। এমনকি সিল্কের বিয়ে হয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে। অভিনেত্রীর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের নির্যাতনের কারণে তিনি সেই সম্পর্ক থেকে বেড়িয়ে যায়। পরে তিনি চলে যান ভারতের চেন্নাইতে।
চলচ্চিত্রে তার শুরুটাও ছিল একেবারেই সাধারণ। প্রথমে তিনি কাজ করতেন টাচ-আপ আর্টিস্ট হিসেবে। পরে অভিনেতা ও পরিচালক ভিনু চক্রবর্তীর নজরে আসেন। তার সহযোগিতায় নাচ, অভিনয় ও শিষ্টাচারের প্রশিক্ষণ নেন সিল্ক। ১৯৮০ সালের ‘বন্ডিচাক্কারাম’ সিনেমায় বারবালার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পরিচিতি পান। আর সেই সিনেমাতে তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করেন তার নাম ছিল সিল্ক। আর পরে সেই সিল্ক নাম থেকেই তিনি সবার কাছে হয়ে উঠেন সিল্ক স্মিতা নামে।
এখানেই শেষ নয়, ১৯৮২ সালে রজনীকান্তের ‘মুন্দ্রু মুগম’ মুক্তির পর সিল্ক স্মিতা আবেদনময়ী চরিত্রের প্রতীকে পরিণত হন। দেখা যায় আশি থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত একেক পর এক সিনেমায় কাজ করেছেন সিল্ক আর সব সিনেমাই বক্স অফিস হিট ছিল। এমনকি বলা হয় একটা সময় ছিল যখন একটি সিনেমার সাফল্য শুধুমাত্র সিল্ক স্মিতার উপস্থিতির উপর নির্ভর করত। তামিল চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ রান্ডোর গাইয়ের মতে, যেসব সিনেমা বছরের পর বছর ধরে তৈরি না হয়ে পড়ে থাকত, সেগুলোও শুধুমাত্র সিল্ক স্মিতার একটি গান যোগ করার মাধ্যমে বিক্রি হয়ে যেত।
সিল্ক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন ঠিকই তবে সেটা কেবল আবেদনময়ী হিসেবে আর এটা এক সময় তার ক্যারিয়ারের সমস্যা হয়ে যায়। তিনি তার অভিনয় প্রতিভাবে কাজে লাগাতে পারেননি আবেদনময়ী হিসেবে পর্দায় হাজির হয়ে। এমনকি একটা সময় তার কাজ পেতেও নানান সমস্যা হতো। জানা যায়, জীবনের শেষদিকে তার ব্যক্তিগত ও আর্থিক জীবন নিয়েও নানা সমস্যার কথা সামনে আসে। আর্থিক সংকট, প্রেমে হতাশা এবং তীব্র বিষণ্নতার মতো বিষয়গুলো তার মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসবের কোনটি সত্যি সেটা কিন্তু আজও অজানা। তিনি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, এর পেছনের কারণ কী থাকতে পারে সেটা আজও রহস্য।
সিল্কের মৃত্যু নিয়ে আজও হাজারও প্রশ্ন রয়েগেছে। অভিনেত্রী মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে অভিনেতা রবিচন্দ্রনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। একাধিকবার ফোন করলেও দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে তাদের কথা হয়নি বলে পরে জানান রবিচন্দ্রন। তিনি ভেবেছিলেন, এটি হয়তো সিল্কের স্বাভাবিক কোনো ফোনকল। কিন্তু পরদিন তার মৃত্যুর খবর পেয়ে সেই ফোনকলের কথা মনে পড়ে যায় অভিনেতার।
আজও প্রশ্ন উঠে অভিনেত্রী শেষ ফোন কলে আসলে কী বলতে চেয়েছিলেন। তাকে কি কেউ হত্যা করতে এসেছিল। সবটা আজও রহস্য। সিল্ক দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম নাম। এক সময় যেই অভিনেত্রীর উপস্থিতি দর্শককে আনন্দ দিত আর আজ সময়ের সঙ্গে তিনি যেন কেবলই একটি আনসলভ কেস। অভিনেত্রী মৃত্যুর পরও রহস্য হয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন তোলেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :