শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তৃষাকে বিয়ে করছেন বিজয়? কত টাকা দিচ্ছেন প্রথম স্ত্রীকে

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েই তৃষাকে বিয়ে করছেন বিজয়? কত টাকা দিচ্ছেন প্রথম স্ত্রীকে

বিনোদন ডেস্ক: ভারতের দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, তেমনটাই মনে করছেন সবাই। যদিও এর মধ্যে কিন্তু রয়েছে। অভিনেতা নির্বাচনে জয়ের পর অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান তার বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিয়ের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এর আগে সুপারস্টারের স্ত্রী সংহীতা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করার পরও সেই একই ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে। টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিজয়ের এ শক্তি তামিলনাড়ুর দুটি প্রভাবশালী দলের (ডিএমকে ও এআইএডিএমকে) আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে। তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য থালাপতি বিজয়ই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিযোগী। সরকার গঠনের জন্য তার আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। তার এই বিপুল বিজয়ের মাঝেও থালাপতির ব্যক্তিগত জীবনের তোলপাড় আবারও শিরোনামে উঠে এসেছে। 
জানা গেছে, থালাপতি বিজয় তার স্ত্রী সংগীতাকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভাবছেন। এদিকে বিজয়ের জয়ের পর তার চর্চিত প্রেমিকা তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে বিয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের জয়ের মাঝে সবার নজর এখন তার স্ত্রী সংগীতার দিকে। ২৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিশ্বাসঘাতকতা, মানসিক যন্ত্রণা এবং অবহেলার অভিযোগ এনে সংগীতা ফেব্রুয়ারিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। এক কথোপকথনে তিনি বিজয়ের জীবনে অন্য এক নারীর অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছিলেন, যা কখনো প্রমাণিত হয়নি; কিন্তু মানুষ ধরে নিয়েছিল যে, এটি তৃষা কৃষ্ণানের প্রতি ইঙ্গিত ছিল। এখন সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হচ্ছে, তারা সম্পত্তি ভাগাভাগি ও সন্তানের হেফাজত নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। 
সংগীতা তার বিবাহবিচ্ছেদের কারণ হিসেবে এক শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীর সঙ্গে বিজয়ের সম্পর্ককে উল্লেখ করেন। এ    রপর তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে বিজয়ের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। নিজের আবেদনে সংগীতা আরও দাবি করেন, বিজয় বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তাদের অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যান।তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের ভূমিধস জয়ের মাঝে তৃষা কৃষ্ণানের সঙ্গে তার বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৬ সালের মার্চে একটি বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পরও তাদের বিয়ের গুঞ্জন উঠেছিল। সংগীতা বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আবেদন করার পর তাদের একসঙ্গে উপস্থিতি বিশেষ সম্পর্কের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল।থালাপতি বিজয়ের বিপুল সম্পদ রয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, যদি তার স্ত্রী সংগীতা ভরণপোষণ দাবি করেন, তবে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ ও সম্পত্তি পাবেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিজয় সংগীতাকে ভরণপোষণ হিসেবে ২৫০ কোটি টাকা দিতে পারেন এবং তাদের সন্তানদের লালন-পালনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে পারেন। সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদি দুই পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছায়, তবে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ হয়ে যাবে; কিন্তু তা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, সংগীতার আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত থালাপতি বিজয়কে তলব করেছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, যে বিচারক মামলাটি শুনছিলেন, তাকে বদলি করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে যে, তারা দুজন পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, থালাপতি বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা একজন ব্যবসায়ীর কন্যা।প্রকৃতপক্ষে সংগীতার আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত থালাপতি বিজয়কে তলব করেছিল। আশ্চর্যজনকভাবে যে বিচারক মামলাটি শুনছিলেন, তাকে বদলি করা হয়েছে। জানা গেছে, তারা দুজন পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, থালাপতি বিজয়ের স্ত্রী সংগীতা একজন ব্যবসায়ীর কন্যা।
সম্প্রতি থালাপতি বিজয় এক সাক্ষাৎকারে সংগীতার সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন। ‍‍`লাভ টুডে‍‍` সিনেমার সেটে তাদের দেখা হয়েছিল এবং সংগীতা তার একজন ভক্ত ছিলেন। বিজয় বলেন, সংগীতা ঠিক তার মতোই মৃদুস্বরে কথা বলতেন। তিনি যখন সংগীতাকে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান, তখন তার বাবা তাকে পছন্দ করেন। বাবার জেদেই তিনি তাকে বিয়ে করেছিলেন।
থালাপতি বিজয় সংগীতার প্রশংসা করে বলেন, সংগীতা তাদের বিয়েতে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো সাড়া দেননি। সংগীতা পরে অনুভব করেন যে, তার প্রচেষ্টা বৃথা গেছে। তিনি বলেন, ‍‍`বিয়ের আগে সে অনেক চেষ্টা করত। বিয়ের পর ততটা করত না। সে ভাবত এটা অর্থহীন। কারণ আমি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতাম না। এদিকে সে আমাকে গাড়ি এবং অন্যান্য জিনিস উপহার দিতেই থাকত। সে খুব বুঝদার এবং সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদি কোনো সিনেমা ফ্লপ হতো, সে আমাকে বলত মন খারাপ না করতে।‍‍`
উল্লেখ্য, সংগীতা ও বিজয় ১৯৯৬ সালে প্রেম শুরু করেন এবং ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন। ১৯৯৮ সালে তারা ইংল্যান্ডে তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। এক বছর পর তারা চেন্নাইতে হিন্দু ও খ্রিস্টান উভয় রীতি মেনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
সংগীতা একটি তামিল হিন্দু পরিবার থেকে এসেছেন। অন্যদিকে বিজয়ের বাবা খ্রিস্টান এবং মা হিন্দু। বিয়ের প্রায় এক বছর পর তাদের ছেলে জেসন সঞ্জয়ের জন্ম হয়। এ দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান হয় ২০০৫ সালে, তাদের মেয়ে দিব্যা সাশা৷ অভিনেতার দুই সন্তানই তার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।ছবি-সংগৃহীত

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!