বিনোদন ডেস্ক: ভারতের দিল্লি এখন উত্তাল। একের পর এক আটক করা হচ্ছে, রাজনীতিবিদ, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ককরোচ পার্টির সদস্যসহ আন্দোলনকারীদের। আটকের তালিকা বেড়েই যাচ্ছে। আর দেখা গেছে বিভিন্ন আন্দোলন কেন্দ্র করে কথা বলেছেন দেশটির তারকারা। ভারতে ভোটাধিকার, শিক্ষার্থীদের দাবি ও গণতন্ত্র নিয়ে প্রতিবাদের মঞ্চে একের পর এক যুক্ত হচ্ছেন চলচ্চিত্র ও বিনোদনজগতের পরিচিত মুখেরা। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিভিন্ন কর্মসূচিতে কখনো সরাসরি বিক্ষোভে, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংহতি জানাচ্ছেন তারা। শাবানা আজমি, নাসিরউদ্দিন শাহ, প্রকাশ রাজ থেকে শুরু করে ধ্রুব রাঠি তারকাদের এমন অংশগ্রহণে আলোচনায় এসেছে আন্দোলনটি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনটির কর্মসূচি এখন শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি কিংবা শিক্ষা খাতের অনিয়মের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর), ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে নাগরিকদের সচেতন থাকার বিষয়টি উঠে আসে তার অংশগ্রহণে। একই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা নাসিরউদ্দিন শাহ। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে তার আলিঙ্গনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে আসছেন শাবানা আজমি ও নাসিরউদ্দিন শাহ। তাদের উপস্থিতিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংহতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মুম্বাইয়ের ওই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ, সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি ও অভিনেতা অতুল কুলকার্নি।
আন্দোলনের সাম্প্রতিক আলোচিত কর্মসূচিগুলোর একটি অনুষ্ঠিত হয় ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে। সেখানে অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে জানা যায়, কর্মসূচিটির মূল দাবি ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিল এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। প্রকাশ রাজের বক্তব্য, এসআইআর কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার বিষয় নয় এর সঙ্গে নাগরিকের মর্যাদা ও ভোটাধিকার জড়িত। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগই তাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়, পুরো এসআইআর প্রক্রিয়াটি বাতিল করতে হবে।
অন্যদিকে, ধ্রুব রাঠি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ তোলেন। তার বক্তব্য, এই আন্দোলনে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্য সরকার পরিবর্তন নয়। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার বিষয়ে আন্দোলনকারীদের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে সব তারকাকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ভিডিও শেয়ার করে বা তাতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। দিয়া মির্জা ও কঙ্কনা সেনশর্মা শাবানা আজমির শেয়ার করা প্রতিবাদের ভিডিও পুনরায় পোস্ট করেন। রিচা চাড্ডা, টুইঙ্কল খান্না, জোয়া আখতার, শিবানী আখতার, তারা শর্মা সালুজা ও সাবা পাতৌদিও ওই ভিডিওর মন্তব্য বিভাগে প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলনসংক্রান্ত বক্তব্য ও কর্মসূচি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সিজেপির কর্মসূচিগুলোতেও সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি থেকে ভোটার তালিকা সংশোধন বিভিন্ন ইস্যুতে তারকাদের অংশগ্রহণ আন্দোলনটিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে তারকাদের উপস্থিতি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন কোনো আন্দোলনের সব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না। আন্দোলনকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেই বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া সম্ভব। উত্তাল দিল্লির পরিস্থিতি এখন কোন দিকে যায় সেটি দেখার বিষয়। কারণ সময়ের সঙ্গে আন্দলন চলছেই। সংগৃহীত ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :