শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

চুয়েটে এবার অনলাইন মিটিংয়ে সাড়া মিলেনি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

চুয়েটে এবার  অনলাইন মিটিংয়ে সাড়া মিলেনি

ডেইলি খবর চট্টগ্রাম: এবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) অনলাইন সিনিাডবেট মিটিংয়ে সারা মিলেনি।উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। কিন্তু গত শুক্রবার সকালেই তিনি সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। বর্তমানে কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। তাছাড়া, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় নতুন ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডাকেন। তবে সভায় সিন্ডিকেটের অধিকাংশ অংশ নেননি বলে জানা গেছে।  

অন্যদিকে, দাবি আদায়ে ২৫ দিনের মত চলছে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। ফলে স্থবির হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। তাছাড়া পূজার ছুটিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করায় পুরো এলাকা এখন ফাঁকা হয়ে আছে।  

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন বলছে, গতকাল শুক্রবার সকালে চুয়েট ভিসি সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। তবে কোথায় গিয়েছেন তা তারা জানেন না।

বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিন্ডিকেটের চেয়ারম্যান (চুয়েটের উপাচার্য) সভা আহবান করেন। তবে সিন্ডিকেটের সেক্রেটারি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির দাবি করে বেেলেছন, আমি রেজিস্ট্রার পদ থেকে আগেই পদত্যাগ করেছি। সুতরাং সেক্রেটারি হিসেবে আর বহাল নই। স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান ছুটিতে থাকায় যোগদান করেননি। অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল এর মা অসুস্থ থাকায় তিনি সভায় অংশ নেননি।

তাছাড়া, সিন্ডিকেট সদস্য ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অফ ইনফর্মেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি এর পরিচালক ও ইনস্টিটিউট অফ রিভার, হার্বর অ্যান্ড এনভায়রমেন্টাল সায়েন্স এর পরিচালক কল ধরেন নাই। অন্যদিকে, এক্সটার্নাল মেম্বারদের মধ্যে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান সভায় অংশ নেন। তবে সিন্ডিকেট সভায় চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্য অংশ নেননি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। মিটিংয়ের আপডেট উপাচার্য নিজে দিবেন বলে জানান তিনি। তাছাড়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দার চৌধূরী অংশ নেননি।    

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সোমবার সকালে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন নতুন ভিসি। পরে তাঁকে ভেতরে রেখেই ভবনের ফটকে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ করে রাখার প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়। এরপরই তাকে চমেক হাসপাতালে কেবিনে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তিনি আবারও চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরে আসেন। এর আগেও তিনি প্রায় ১২ দিন সেখানে অবস্থান করছিলেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় অনলাইনে তিনি সিন্ডিকেট সভার আহ্বান করেন। তবে মিটিংয়ে অনেক সদস্যই অংশগ্রহণ করেন নাই বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।  

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আমাদের দাবি একটাই- ড. সায়েম স্যারের পুনর্বহাল। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের চলমান কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকবে। তবে বন্ধের মধ্যে আপাতত আন্দোলন কোনো কর্মসূচি থাকবে না।

চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাব শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পযর্ন্ত আন্দোলন চলবেই। পূজার ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খোলার পরও শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।        

উলোলখ্য-, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!