শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঢাবির সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষক ও ১ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যাহতি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

ঢাবির সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষক ও ১ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যাহতি

ডেইলি খবর ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং ৪ জন শিক্ষককে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৮শে জুলাই উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার বিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)কেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিভাগের নানাবিধ অনিয়ম এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডি থিসিসে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

সভায় ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নিয়োগের সকল অনিয়ম পর্যালোচনা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিনকে এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতাধীন গবেষণা কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবহার পর্যালোচনার জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!