শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

ঢাবির পরীক্ষার প্রশ্নে ‘আনার হত্যাকাণ্ড’ ও ‘বেনজীরের দুর্নীতি’

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৪, ০৬:৩৩ পিএম

ঢাবির পরীক্ষার প্রশ্নে ‘আনার হত্যাকাণ্ড’ ও ‘বেনজীরের দুর্নীতি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি নিয়ে করা প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রশ্নপত্র তৈরি করা অধ্যাপক।

সোমবার (৩ জুন) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষার প্রশ্নে এই ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। বিভাগে ‘থিওরিস অব সোশ্যাল চেঞ্জ : ফ্রম মর্ডানিটি টু পোস্টমর্ডানিটি’ শিরোনামের কোর্সটি পড়ান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে সেটি সাথেসাথেই ভাইরাল হয়।

প্রশ্নপত্রে দেখা যায়, প্রথম প্রশ্নটি করা হয়েছে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে ‘হানি-ট্র্যাপে বাংলাদেশি এমপি : ৫ কোটি টাকার চুক্তিতে হত্যা’ শিরোনামে খবরের কিছু অংশ তুলে দিয়ে তা শিক্ষার্থীদের পঠিত মার্কস, ফ্রয়েড, মারকুস এবং হার্ভের তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রশ্নে সময় টিভির একটি সংবাদের বরাতে ‘বেনজীরের দুর্নীতি : সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও দুর্নীতি দমন কমিশন সক্রিয় হবে কি?’ শিরোনামের খবরটিকে উপজীব্য ধরে বাংলাদেশের পুঁজিবাদী প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কস ও হার্ভের থিওরি অনুযায়ী বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে এই প্রশ্নপত্রের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদের প্রশংসা করেছেন।

‘দ্য বিউটি অব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি ফেসবুক পেজে মোজাম্মেল হোসেন রিমন নামে এক শিক্ষার্থী মন্তব্যের জায়গায় বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্ন তো এমনই হওয়া উচিত। অ্যাকাডেমিক কারিকুলামের বাইরেও সাবজেক্ট রিলেটেড অন্য বিষয়গুলোর প্রশ্ন করা উচিত। সমাজবিজ্ঞান পড়বে আর নিজের দেশ ও সমাজব্যবস্থা নিয়ে জানবে না তা কেমন? আর শুধু সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রের জন্য নয়, যেকোনো সচেতন নাগরিকেরই উচিত সমাজ ও রাজনীতি সচেতন হওয়া। রাজনীতি সচেতনতার মানে এই নয়, রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়া। অ্যাটলিস্ট দেশের এবং বিশ্বের জিও পলিটিক্স নিয়ে আপডেট-খোঁজ খবর রাখা।’

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ এস ইসলাম সজিব লেখেন, একজন প্রকৃত শিক্ষাবিদকে তার সমাজকে তার অনুশাসনের লেন্সের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। আমি এই শিক্ষককে সাধুবাদ জানাই।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ খান মন্তব্যের জায়গায় লেখেন, ‘মাহবুব স্যার খুবই বাস্তববাদী এবং সময়োপযোগী বিষয়ে ছাত্রদের পাঠদান করান এবং সেই সব উদাহরণ দিয়েই প্রশ্ন করেন। আমি খুবই ভাগ্যবান যে তার মতো একজন শিক্ষকের ছাত্র হতে পেরেছি।’

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি যে কোর্স পড়িয়েছি তার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে দেশের সাম্প্রতিক বিষয়ের সাথে মিলিয়ে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছি। কোর্স মডিউল শিক্ষার্থীরা মুখস্থ করে এসে পরীক্ষায় লিখবে এই গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে আমি প্রশ্ন করেছি। শিক্ষার্থীরা প্রশ্নগুলোর ধরন ও গভীরতা বুঝে পঠিত কোর্স এবং বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে উত্তর করবে। এটাই আমার মূল্যায়নের ধরন।’ 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!