মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুর

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুর

ডেইলি খবর ডেস্ক: দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৬টায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে যৌথ এ অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে অংশ নেয় যৌথবাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য।  
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে কেটে তৈরি হওয়া জঙ্গল সলিমপুরে প্লট বাণিজ্য, অস্ত্র ও মাদক নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে পরিবর্তনের পর দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর। এরপর সেখানে সমন্বিত অভিযান চালানোর বিষয়টি সামনে আসে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় ওই সময় আর অভিযান চালানো হয়নি। এ ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও আর ২০০ জন অজ্ঞাত পরিচয়ধারীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও চার র‌্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে তাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ ছিল মশিউর–গফুর গ্রুপের হাতে। পরে তা রোকন গ্রুপের দখলে যায়। অন্যদিকে আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করত ইয়াসিন গ্রুপ। সম্প্রতি ইয়াসিন গ্রুপ রোকন গ্রুপকে সরিয়ে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নিয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে ২০২২ সালে একবার র‌্যাবের সঙ্গে ‘সন্ত্রাসীদের’ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একই বছরে সলিমপুরে অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযানের পর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়া হয়। ওই বছরই আলীনগরে অবৈধ বসতি উচ্ছেদে গেলে স্থানীয় ‘সন্ত্রাসীরা’ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের শাখা, মডেল মসজিদ, স্পোর্টস ভিলেজ ও নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন প্রকল্প নেয়ার উদ্যোগ হয়। তবে এলাকার নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে না থাকায় এসব প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এখন পুলিশ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আজকের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ করে র‌্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।ছবি-সংগৃহীত
 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!