বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকারের ৬ মাসে বেড়েছে রিজার্ভ-রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ ও শিল্পে ধীরগতি

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

সরকারের ৬ মাসে বেড়েছে রিজার্ভ-রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ ও শিল্পে ধীরগতি

ডেইলি খবর ডেস্ক: বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবাসী আয় বেড়েছে। রপ্তানিতেও এসেছে সাময়িক গতি। জুলাইয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ইঙ্গিত মিললেও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদনে এখনো কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরেনি। তবে আমদানি বাড়ার প্রবণতা নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সময়ে বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকারকে সতর্কভাবে এগোতে হবে।

দুই দশক পর ক্ষমতায় এসে অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি। বাড়তি বিনিয়োগ টেনে নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্ধ ও লোকসানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেই গতি দেখা যায়নি। উৎপাদন ও রপ্তানিতে গতি থাকার মধ্যেই চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট অর্থনীতির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও অর্থনীতির অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক আমদানিতে গতি এসেছে।

তবে নতুন কারখানা স্থাপন, মূলধনী যন্ত্রপাতি কিংবা শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কাঙ্ক্ষিত গতি দেখা যায়নি। গত বছরের জুলাইয়ে যেখানে বেসরকারি ঋণপ্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ১৩ শতাংশের ঘরে, এক বছরের ব্যবধানে তা নেমেছে অর্ধেকেরও নিচে। বেসরকারি ঋণপ্রবৃদ্ধির এই গতি ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, চ্যালেঞ্জটা সহজ হয়ে যায় যদি অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয়। রেভেনিউ বেজটা যদি বৃদ্ধি পায়। ওটা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন হবে কাঠামোগত সংস্কার।এদিকে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে। এ সময়ে রেমিট্যান্স বাড়লেও ডলারের বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি।

গত ছয় মাসে নতুন বড় শিল্পকারখানা খুব একটা চালু হয়নি। বরং উৎপাদন বন্ধ হওয়া কিংবা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা নিয়মিত ঘটেছে। একই সঙ্গে সংকুচিত হয়েছে নির্মাণ খাত। ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর যে প্রত্যাশা ছিল, সেখানে এখনো কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরেনি।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এক্সিস্টিং বিনিয়োগকারীরাই তাদের বিনিয়োগ সীমিত করে দিচ্ছেন। নতুন বিনিয়োগকারীরা তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিবে। এলএনজি দিয়ে একটা ফিক্সড করার চিন্তা। বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে আনার চিন্তা, এটা সরকারকে আরও বেশি ঋণগ্রস্ত করবে এবং এখান থেকে তার ফিরে আসা কঠিন হবে।

সব মিলিয়ে সরকারের প্রথম ছয় মাসকে বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা অর্জনের সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানিতে সাময়িক গতি অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। তবে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদনে এখনো ধীরগতি রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী ধাপে বৈদেশিক খাতে অর্জিত স্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে গতি ফেরানোই হবে বড় ধাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ক্ষেত্রে সরকারকে সতর্কভাবে এগোতে হবে।সংগৃহীত

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!