বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

ছাগলকান্ডের মতিউর দেশেই আছেন

আইন-অপরাধ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৪, ১০:৪২ এএম

ছাগলকান্ডের মতিউর দেশেই আছেন

দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত আত্মগোপনে থাকা ছাগলকান্ডের আলোচিত মতিউর দেশেই আছেন। এরই মধ্যে তাঁর দেশে থাকার একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারীতে আছেন বলে একাধিক সুত্র জানায়। 
গত ৪ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাঠানো নোটিশ তিনি নিজে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেছেন। একই দিন তাঁর প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ, প্রথম পক্ষের ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণব ও মেয়ে ফারজানা রহমান ঈপ্সিতার পক্ষে স্বাক্ষর করে সম্পদের নোটিশও গ্রহণ করেন এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। 
সূত্র জানায়, মতিউর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদক কর্তৃক প্রকাশ্যে অনুসন্ধান শুরু হওয়ায় তিনি নির্দিষ্ট কোনো বাসায় বেশি দিন থাকছেন না। এক ধরনের আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি।  
মতিউর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদক তাদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় চিঠি পাঠায় ২ জুলাই। এই দিনে দুদকের বিশেষ বাহক মতিউরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় গিয়ে তাঁকে পাননি। তিনি বাসার নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, মতিউর দেশেই আছেন। সব দিন এই বাসায় থাকেন না। এর পর তাঁর মাধ্যমে খবর দিয়ে মতিউরকে বাসায় আসার জন্য বলা হয়। নিরাপত্তারক্ষী মতিউরের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন বলে দুদকের বাহককে জানান। এর মধ্যে দুদকের প্রতিনিধি ও মতিউরের বাসার নিরাপত্তারক্ষীর মধ্যে যোগাযোগ হয়। তাঁকে জানানো হয়, ৪ জুলাই মতিউর এ বাসায় থাকবেন। এই দিনে নোটিশগুলো নিয়ে যেতে বলেন। তাঁর কথা অনুযায়ী, ওই দিন দুদকের বাহক ঢাকার বসুন্ধরার আলিশান বাড়িতে গেলে তাঁকে ভবনের ওপরের তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। 
ওই সময় দুদকের বাহক পরিবারের নোটিশগুলো মতিউরের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রথমে মতিউর রহমান স্বাক্ষর করে নিজের নোটিশটি গ্রহণ করেন। এর পর একে একে অন্যদের পক্ষে স্বাক্ষর করে তিনটি গ্রহণ করেন। দুদকের বাহক মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে দেখেন বাসাটি তালাবদ্ধ। তাঁর ব্যাপারে কথা বলার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে বাসার সামনে নোটিশটি টানিয়ে দেন। 
জানা গেছে, দুদক মতিউরের নোটিশটি তাঁর বসুন্ধরা বাসা ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বরিশালের মুলাদীতে তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় পাঠিয়েছে। একইভাবে মতিউরের
প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের বসুন্ধরার বাসা ও নরসিংদীর রায়পুরার স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর নোটিশ ধানমন্ডির বাসা ছাড়াও ফেনীতে তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। 
দুদক আইন অনুযায়ী, ৪ জুলাই নোটিশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিতে না পারলে তারা কমিশনে আবেদন করে আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে নিতে পারবেন। যারা ২১ দিনের মধ্যে হিসাব জমা দেবেন না এবং সময় বৃদ্ধিরও আবেদন করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ার অভিযোগে দুদক আইন অনুযায়ী নন সাবমিশন মামলা করা হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলাদা মামলা করা হবে। আইনে নন সাবমিশন মামলায় তিন বছর ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ১০ বছরের শাস্তির বিধান রয়েছে। 
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম মতিউর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ হুন্ডি ও আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এর অংশ হিসেবে ৪ জুলাই মতিউর রহমান, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ১ হাজার ১৯ শতাংশ জমি ও চারটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন আদালত। জব্দ আরও সম্পদের মধ্যে রয়েছে– মতিউরের নামে বরিশালের মুলাদী উপজেলায় ১১৪ শতাংশ জমি, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মরজাল ইউনিয়নের মরজাল মৌজায় মতিউরের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে ৫২২ দশমিক ৫২ শতাংশ জমি, প্রথম স্ত্রীর ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে ২৭৫ দশমিক ৮৭৫ শতাংশ জমি ও মেয়ে ফারহানা রহমান ঈপ্সিতার নামে ১০৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ জমি। জব্দ চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে মতিউরের স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে বসুন্ধরায় একটি ফ্ল্যাট, মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর নামে জিগাতলায় একটি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি এবং মেয়ে ফারহানা রহমান ঈপ্সিতার নামে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!