বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

রূপপুর পারমাণবিক থেকে আগস্টে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে না

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

রূপপুর পারমাণবিক থেকে আগস্টে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে না

ডেইলি খবর ডেস্ক: ঘোষনা ছিল চলতি আগস্টেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার আশা ছিল। তবে সেই লক্ষ্য এখন আর পূরণ হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা শেষ হলেও পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) ‘বি-২’ কমিশনিং লাইসেন্স এখনও মেলেনি। এই লাইসেন্স ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রথম বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার সময় আরও পিছিয়ে গেল।

প্রকল্প সূত্র জানায়, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজন শুরু হয়। এরপর জ্বালানি সংযোজন ও প্রাথমিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো রিঅ্যাক্টরে (যেখানে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তাপ উৎপাদন করা হয়) নিয়ন্ত্রিতভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা, যাকে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়। এই ধাপে যেতে হলে আগে বায়েরার বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স পেতে হবে।

রূপপুর প্রকল্প পরিচালনাকারী নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান বলেন, প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর জ্বালানি সংযোজন এবং গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এখন বায়েরা চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষে লাইসেন্স দিলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, লাইসেন্স পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না। প্রথমে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া চালু হবে। এরপর আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, এই পর্যায়ের লাইসেন্স দেওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া। প্রকল্পের নিরাপত্তা, সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ নিশ্চিত হওয়ার পরই লাইসেন্স দেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ এই অনুমোদন দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাননি।

রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ড. শৌকত আকবর বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপসের সুযোগ নেই। তাই প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে শেষ করেই কেবল পরবর্তী ধাপে যেতে হয়।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ফাইল ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!