বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে চাহিদার তুলনায় বেশি প্রস্তুত ৪০ হাজার কোরবানির পশু

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

কিশোরগঞ্জে চাহিদার তুলনায় বেশি প্রস্তুত ৪০ হাজার কোরবানির পশু

আমিনুল ইসলাম সুমন (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জে এবার খামার ও ব্যাক্তিগত পর্যায়ে কোরবানির হাটে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ গবাদি পশু। যা জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ হাজার বেশি। অন্যান্য বারের মত এসব বাড়তি গরু বিক্রি হবে দেশের অন্যান্য জেলায়। এবার কোরবানির পশুর ভাল দাম পাওয়ার আশা খামারীদের। সব ধরনের সহযোগীতা দেওয়ায় জেলায় স্টেরোয়েড ড্রাগমুক্ত পশু উৎপাদন বেড়ছে বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
জেলার ১৩টি উপজেলায় ছোট বড় পশুর খামার রয়েছে ৫৪২টি। এর মধ্যে নিবন্ধিত খামার ৩০টি। এছাড়া ব্যাক্তিগত পর্যায়ে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ পশু লালন-পালন করে থাকেন। তবে, খামারিদের চেয়ে ব্যাক্তিগত পর্যায়ে সবচেঢে বেশি পশু লালন-পালন হয়। এবার খামারিরা লালন-পালন করেছেন ৩০ হাজার গবাদি পশু, বাকি বড় অংশই ব্যাক্তিগত পর্যায়ে লালন-পালন করা হয়েছে।
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে কোরবানির ঈদ। তাই ঈদের হাটকে সামনে রেখে চলছে পশু বেচা-কেনার নানা প্রস্তুতি। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি। বিভিন্ন বাড়ি ও খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি গবাদি পশু। এর মধ্যে রয়েছে, ষাঁড় ৭৫ হাজার ২৬৭টি, বলদ ৪ হাজার ১৩৪টি, গাভি ১৭ হাজার ৮৮৬টি, মহিষ ৩ হাজার ৮৩৬টি, ছাগল ৮৪ হাজার ৯৪৩টি এবং ভেড়া ৫ হাজার ২৯৮টি।ফলে পশু বাড়তি রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। শেষ মুহুর্তে খামারগুলোতে চলছে কোরবাণীর পশুর বাড়তি পরিচর্যার কাজ। ভাল দাম পাওয়ার আশা খামারিদের। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খামারি আবদুল বাতেন বলেন, "গরু পালতাছি লাভের আশায়। গেলো বছর গরু পালন করে লোকসান হয়েছে। এবার বাজার শুরু হলে আশার করছি ভাল দাম পাবো। এবার হয়তো লাভ হবে।"কটিয়াদী উপজেলার খামারি জলিল মিয়া বলেন, "গরু পালন করতে অনেক খরচ হয়, ভুষির খরচ, এছাড়া অনেক ধরনের খরচ। বেশ কয়েকদিন ধরে ভুট্টা খাইয়ে পালতেছি বাজারে নেওয়ার আশায়। দাম বেশি পাওয়ার আশা করছি, যদি দাম কম পাই তাহলে লোকসান হবে, কষ্ট বিফলে যাবে। যাই হোক আল্লাহ ভরসা।"
নিকলী উপজেলার খামারি খালেক মিয়া বলেন, "আমরা গরু-মহিষ একসাথে দেশি খাবার খাইয়ে পালতেছি। সামনে কোরবানি, পাইকারেরা খামারে আসতেছে। দাম বেশি পাওয়ার আশা করছি। খামারে বিক্রি না হলে বাজারে নিয়ে যাবো।"খামারিদের সকল ধরনের সহযোগীতা দেওয়ায় দিন দিন প্রাকৃতিক খাবারে রোগমুক্ত পশুর উৎপাদন বাড়ছে। এতে করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের চাহিদা পুরনেও অবদান রাখছেন খামারিরা। এসব কথা জানিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. আব্দুল মান্নান বলেন, "আমরা খামারিদেরকে শুরু থেকেই প্রশিক্ষণ দিয়েছি তারা যেন গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড বা আনইজুয়েল কোন ড্রাগ যেটা জণস্বাস্থের সাথে সম্পর্কিত, সেগুলো যেন তারা ব্যবহার না করে। সেজন্য আমরা উঠান বৈঠক করেছি, তাদেরকে লিফলেট বিতরন করেছি। এবং আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আশাকরি এবছর আমাদের যে গরু বাড়তি আছে কোরবাণীতে কোন সমস্যা হবেনা।"
 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!