শরণখোলা প্রতিনিধি: এবার সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে ৭ দিন শিকলবন্দী হয়ে জিম্মি থাকার পর ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা বাড়িতে ফেরত আসেন।এর আগে গত ৩ মে রাতে পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ তাদের অপহরণ করেছিল।ফিরে আসা জেলেরা হলেন উত্তর রাজাপুর গ্রামের ছগির (৩২), রুবেল হাওলাদার (৩০), রাকিব (২৩), লুৎফর হাওলাদার (৩০), বাদল হাওলাদার (৩৫), সজিব হাওলাদার (২৭), হাফিজুল (২২), আলমগীর ফরাজী (৫০), ইয়াসিন হাওলাদার (২৩), পাথরঘাটার রুবেল (২৫) এবং খুলনার বটিয়াঘাটার দেব চন্দ্র (২৫)।ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, গত ৩ মে রাতে মুক্তিপণের দাবিতে ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ ১১ জেলেকে অপহরণ করে পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখে। ৫ মে বনদস্যু ‘শরীফ বাহিনী’ জাহাঙ্গীর বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর ‘শরীফ বাহিনী’ জেলেদের নিজেদের কব্জায় নিয়ে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে।জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে রুবেল হাওলাদার জানান, ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ তাদের ওপর প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। পরবর্তীতে ‘শরীফ বাহিনী’ মুক্তিপণের টাকা বুঝে পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে তাদের নৌকায় করে ধানসাগর আড়ুয়াবেড় নদীর মোহনায় নামিয়ে দিয়ে যায়। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে তারা নিজ এলাকায় পৌঁছান।
ফিরে আসা জেলেরা আরও জানান, দস্যুরা তাদের গহীন বনের ভেতর হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখত। দিনভর রোদে পোড়া আর রাতে মশার কামড়ের পাশাপাশি চলত অমানুষিক নির্যাতন। ঠিকমতো খাবার ও পানি দেওয়া হতো না।নিরাপত্তার স্বার্থে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মহাজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, দস্যুরা প্রথমে জেলেদের জনপ্রতি ১ লাখ টাকা দাবি করে। দর কষাকষি করে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধের পর দস্যুরা জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও বিপদে পড়ার ভয়ে কোনো জেলে বা মহাজন এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বন বিভাগ জানিয়েছে, দস্যু দমনে সুন্দরবনে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে জেলেরা লোকালয়ে ফিরে আসার পর বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জাহাঙ্গীর বাহিনীকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ফাইল ছবি

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :