শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মহেশখালীতে এলএনজির তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

মহেশখালীতে এলএনজির তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না

ডেইলি খবর ডেস্ক: দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের শুরু থেকেই উঠছে নানা প্রশ্ন। দরপত্র ছাড়াই চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিএনইই) প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান টার্মিনালের তুলনায় এই প্রস্তাবে ভাড়াও বেশি। আবার আগের একটি প্রস্তাবের সঙ্গে সিএনইইর প্রস্তাবের কারিগরি ও বাণিজ্যিক তথ্যের অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।

এর মধ্যেই প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানটির রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে জ্বালানি বিভাগ। অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার পর মালিকানা যাচাইয়ের এই উদ্যোগও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

গত বুধবার পররাষ্ট্র সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে সিএনইইর রাষ্ট্রীয় মালিকানা কূটনৈতিক চ্যানেলে নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বিভাগের উন্নয়ন-৪ শাখার উপসচিব মাসুদা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুন জিটুজি ভিত্তিতে মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব দেয় সিএনইই। প্রস্তাবে নিজেদের সম্পূর্ণ চীনা সরকারের মালিকানাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে ২৬ জুলাই চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির রাষ্ট্রীয় মালিকানা নিশ্চিত করতে স্বীকৃতিপত্র নেওয়ার উদ্যোগ নেয় জ্বালানি বিভাগ। দূতাবাস থেকে সেই স্বীকৃতিপত্রও দেওয়া হয়েছে। তবে এখন সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যথাযথ কূটনৈতিক চ্যানেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জিটুজি ব্যবস্থায় সিএনইইর প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেয়। এর পর পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি কমিটি কোম্পানিটির কারিগরি, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন দেয়। এতে ২০১৬ সালে নির্মিত এক লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি এফএসআরইউর নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর এবং প্রতিদিন ভাড়া ধরা হয়েছে তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার। ১২ শতাংশ ছাড়ে ১৫ বছরে পেট্রোবাংলার মোট দায় দাঁড়াবে প্রায় ১০০ কোটি ২০ লাখ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

তবে প্রস্তাবিত ভাড়াই বড় বিতর্কের জায়গা। দেশে চালু থাকা সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউর দৈনিক ভাড়ার তুলনায় সিএনইইর প্রস্তাবিত ভাড়া প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি।

সিএনইইর প্রস্তাবে উচ্চ ভাড়ার কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, এফএসআরইউ নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে এ ধরনের টার্মিনালের চাহিদা বাড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মূল্যায়ন কমিটিও বলেছে, প্রতিদিন তিন লাখ ৪২ হাজার ডলার ভাড়া কতটা যৌক্তিক, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

শুধু ভাড়া নয়, একই প্রকল্পে এর আগে দেওয়া আরেকটি প্রস্তাবের সঙ্গে সিএনইইর প্রস্তাবের অস্বাভাবিক মিলও আলোচনায় এসেছে। এনএস এনার্জি নেভিগেশন গত ১২ মে মহেশখালীর কুতুবজোমে তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এর প্রায় এক মাস পর সিএনইই একই এলাকায় প্রস্তাব জমা দেয়। দুই প্রস্তাবে টার্মিনালের ধারণক্ষমতা, গ্যাস পুনঃগ্যাসীকরণের সক্ষমতা, অবস্থান, পাইপলাইন সংযোগ, বাস্তবায়ন সময়সূচি ও বাণিজ্যিক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। এমনকি সিএনইইর একটি নথির মানচিত্রে এনএস এনার্জির নামও রয়ে গেছে।

জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্রের দাবি, এনএস এনার্জির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের আত্মীয় জড়িত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সিএনইইর চেয়ে কম ব্যয়ের আরেকটি চীনা প্রস্তাবও রয়েছে। চায়না মার্চেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ও লিয়ান ডকইয়ার্ডের যৌথ প্রস্তাবে তুলনামূলক কম ভাড়ায় টার্মিনাল পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ তামিম বলেন, আগের টার্মিনালগুলোর তুলনায় নতুন এফএসআরইউর ভাড়া এত বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা যাচাই করা দরকার। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া বড় ধরনের চুক্তির আগে ব্যয় ও বাস্তবায়ন সময়সীমা আরও ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। সুত্র-সমকাল, ফাইল ছবি
 

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!