সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

বান্দরবানে বন্যা-পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত জনজীবন, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

বান্দরবানে বন্যা-পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত জনজীবন, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। আজ রোববার (১২ জুলাই) চতুর্থ দিনের মতো বান্দরবান জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে লামা ও আলীকদম উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। কিন্তু রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং থানচি-আলীকদম, লামা-সূয়ালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় পাহাড় ধসের মাটি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবহণ শ্রমিক শাহাবুদ্দিন বলেন, বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের চারটি স্থানের মধ্যে দুটি জায়গা থেকে সড়কের পানি নেমে গেছে। শুধু মাজারগেট এলাকা সড়কটি এখনও ডুবে আছে এবং কলেজ এলাকায় সড়কে আংশিক বন্যার পানি রয়েছে। রাত পর্যন্ত বৃষ্টি না হলে সকালে সড়ক যোগাযোগ চালু হবে।

প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিছেন, গত ৫ জুলাই (রোববার) থেকে জেলার সাতটি উপজেলায় থেমে মাঝারি ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা ও পাহাড় ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষের প্রতিমুহূর্ত কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। সরকারি বেসরকারি ত্রাণ তৎপরতার পরও আশ্রয়কেন্দ্রের হতদরিদ্র শ্রমজীবী বানভাসিদের অভিযোগ পর্যাপ্ত খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।

এদিকে সরকারের পাশাপাশি জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজা পৃথকভাবে বানভাসি মানুষের শুকনো খাবার, মোমবাতি ও মিনারেল ওয়াটারের বোতল দুর্গতদের হাতে হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন।

জেলা শহরটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে মাছ-মাংস, শাক-সবজিও মিলছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অন্যদিকে সড়কে পানি উঠায় প্লাবিত এলাকায় ভ্যানে, নৌকায় পারাপারের নামে অনেকে লোকজনকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সকাল থেকে রুমা, থানচি উপজেলায় সাঙ্গু নদীর উজানে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে বন্যার পানি সাময়িক কমলেও আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কা বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো ছেড়ে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, বন্যার্তদের সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ও জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বন্যা কবলিতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!