রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

পানি সরাতে মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ রেগুলেটর গেট খুলে দিল পাউবো

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

পানি সরাতে মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ রেগুলেটর গেট খুলে দিল পাউবো

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপ সামাল দিয়ে দ্রুত বঙ্গোপসাগরে নিষ্কাশনের লক্ষ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০টি রেগুলেটর গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সূত্র জানায়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোটি মূলত মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান ব্যবস্থা। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা উজানের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে প্রকল্পের ৪০টি রেগুলেটর গেটই সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে, ফলে ফেনী নদীর পানির স্তর এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।

পাউবো আরও জানায়, জোয়ারের সময় বঙ্গোপসাগর থেকে যাতে উল্টো স্রোতে পানি প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে দুইবার প্রায় দুই ঘণ্টা করে গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়। জোয়ারের সময় ছাড়া বাকি পুরো সময় গেট খোলা রেখে পানি নিষ্কাশন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, “উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সব রেগুলেটর গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। জোয়ারের সময় ছাড়া সারাদিনই পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে মুহুরী সেচ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় এর নির্মাণ শেষ হয়। ফেনী, মুহুরী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহে বাঁধ দিয়ে ৪০ ফটকবিশিষ্ট এই পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নির্মাণ করা হয়। সিডা, ইইসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জাপানের শিমিজু কোম্পানি প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।

ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একাংশে বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং আমন চাষে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে প্রকল্পটির মাধ্যমে ২০ হাজার ১৯৪ হেক্টর জমিতে সরাসরি এবং ২৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সম্পূরক সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।সংগৃহীত ছবি

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!