আ.হা.দিনার:কিশোরগঞ্জে বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলার ৮টি উপজেলায় পুরোদমে চলছে বোরো আবাদের কাজ। তবে এ বছর হাওরে প্রচন্ড শীতের কারণে বোরো ধানের চারা রোপনে কৃষকদের অনেক কষ্ট হলেও ৭৫ শতাংশ রোপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ১৩টি উপজেলার সবকটিতেই বোরো আবাদ হলেও হাওর অধ্যুষিত ইটনা,মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, তাড়াইল, ভৈরব, কুলিয়ারচর, করিমগঞ্জ, বাজিতপুর এবং নিকলী উপজেলায় সর্বাধিক পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়। তাই এখানকার কৃষক নিজেকে উজাড় করে চালিয়ে যাচ্ছেন বোরো রোপনের কাজ।
শীতের কনকনে সকালে হাওর পাড়ের কৃষকদের দেখা যাচ্ছে জমিতে কাজ করতে। কেউ জমিতে পানি ধরে রাখছেন, কেউ হালচাষে ব্যস্ত, আবার কেউ চারা রোপণে মগ্ন। শিশু ও নারীরা ধানের হালি চারা আঁটি বাঁধার কাজে সহযোগিতা করছেন। বেশির ভাগ হাওর এক ফসলি হওয়ায় এখানকার কৃষকদের কাছে বোরো চাষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সার-ডিজেলের দাম বেশি থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় কৃষক। সঠিক পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস কৃষি বিভাগের। কিশোরগঞ্জে প্রাায় ১৫ হাজার হেক্টর হাওরাঞ্চলে এখন চলছে বোরো আবাদের প্রস্তুতি।
মিঠামইন উপজেলার গোপদিগী ইউনিয়নের হাওরের কৃষক আবদুল লতিফসহ আরো অনেকে বলেন,‘আমি ১৫ কানি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। শীতের কারণে বোরো রোপন কাজ অনেক কষ্টসাধ্য তারপরও কাজ করছি। তবে সারের অনেক সংকট। চাহিদামতো সার পাওয়া যায় না। খুচরা দোকান থেকে সার কিনতে গেলে বস্তাপ্রতি ৪-৫শ টাকা বেশি দিতে হয়।
অষ্টগ্রাম উপজেলার মিজমু মিয়ার নামের এক কৃষক বলেন, আমি ১০কানি জমিতে বোরো আবাদ করছি। রোপন কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন সার দরকার। কিন্তু ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার নেই। সামনে আমাদের অনেক সার দরকার। এখন আমরা সারের দুশ্চিন্তায় আছি।
ইটনা হাওরের কৃষক বাদল মিয়া বলেন, বোরো রোপনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। হাওরাঞ্চলে আমরা বোরো ধান ফলাতে গিয়ে প্রতি বছর পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং আগাম বন্যা নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকতে হয়। এ বছর আমরা চাহিদামতো সার পাইনা। সময়মতো সার না পেলে আমরা লাভের চেয়ে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা করা হয়েছে। এতে রয়েছে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের ধান। চাষিদের পাশে থেকে বোরো আবাদের সব পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বোরো আবাদের জন্য জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত আছে। কৃষক যেন সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে সার পায়, সেজন্য জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কার্যক্রম অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওরেই আবাদ হবে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :