শাহজাহান সাজু (কিশোরগঞ্জ): টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির পাঁকা বোরো ধান। এ অঞ্চলের চাষিদের একমাত্র ফসল ডুবে যাওয়ায় চরম বিপাকে পরেছেন তারা। বৃষ্টি এবং উজানের ঢল অব্যহত থাকায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারনা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
আজও থামেনি বৃষ্টি, টানা বর্ষণে হাওরের অন্যান্য এলাকায়ও ধান কাটা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারনে বাড়তি মুজুরিতেও মিলছেনা ধান কাটার শ্রমিক। এতে করে ক্ষেতে থেকেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় পাঁকা ধান। যেসব ধান কেটে মাড়াই করে রোদে শুকানোর আশায় রেখেছিল কৃষকেরা, সেসব ধানও এখন ভিজে নষ্ট হওয়ার পথে।
কিশোরগঞ্জের নিকলী প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় ১৬০মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও ৪দিন আবহাওয়া বৈরী থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
গেলো সপ্তাহেও কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আবদুল্লাপুর হাওরজুড়ে ছিলো সোনালী ধানের ঝিলিক। এ পুরো হাওরের পাঁকা ধান ডুবে সেখানে এখন থৈ থৈ পানি। চলমান টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে খোয়াই নদীর পানি উপচে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ বোরো ধানের জমি।একই দৃশ্য এখন জেলার ইটনা, মিঠামইন, নিকলি, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, বাজিতপুর ও সদর উপজেলার হাওর অধ্যুষিত এলাকাজুড়ে।চলমান টানা বৃষ্টির আগে, উজানের ঢলের শুরুতে জলাবদ্ধ কিছু জমি থেকে ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কৃষকেরা। তবে, এর জন্য গুনতে হয়েছে দ্বিগুন খরচ। এসব ধান ঘরে তুললেও উৎপাদন খরচ বেড়ে হয়েছে কয়েকগুণ। এখন কষ্টে ফলানো ফসল ডুবে যাওয়ায় দিশেহারা কৃষক।
অষ্টগ্রামের আবদুল্লাহপুর উপজেলার কৃষক আবদুল খালেক বলেন, "২ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। ধান পাঁকা রঙ ধরেছিল। হয়তো আর ৮-১০ দিন পর কেটে ফেলতাম। কিন্তু এখন পুরো ফসল পানির নীচে। আমার সব শেষ।"
কলিমপুর হাওরের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, "মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। এখনতো চোখের সামনে পানিতে ডুবছে। প্রতি ঘন্টায় পানি বাড়ছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন সারা বছর না খেয়ে কাটাতে হবে। এছাড়া কি খাবো, বলেন? মহাজনের টাকা কোথা থেকে দিবো, বলেন?"
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমানর।
তিনি বলেন, "জেলার হাওর অধ্যুষিত ৮টি উপজেলায় পাঁকা ধানের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। প্রতিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা এবং ক্ষতিগ্রস্থ জমির পরিমাণ নির্ণয় করছেন। সব একসাথে হলে এগুলো ঢাকায় পাঠানো হবে। কৃষক যাতে প্রনোদনা পায়, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
চলতি বছর জেলার হাওরাঞ্চলে ১ লক্ষ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ ধান কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষকেরা।

ডেইলি খবরের সর্বশেষ নিউজ পেতে Google News অনুসরণ করুন।
আপনার মতামত লিখুন :