শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

সাবরিনার দুই এনআইডি স্বামীর নাম ভিন্ন

প্রকাশিত: ০৬:১৮ এএম, আগস্ট ২৭, ২০২০

সাবরিনার দুই এনআইডি স্বামীর নাম ভিন্ন

ডেইলি খবর ডেস্ক: করোনা ভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর নতুন করে এই প্রতারণার তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবরিনা মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়েছেন বলে জানতে পেরেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। দুটি এনআইডিতে স্বামীর নাম দু’রকম। দুটি আইডিতে বয়সের পার্থক্যও দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তার দুটি এনআইডিই সক্রিয়। দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি টের পাওয়ার পর বিস্তারিত জানতে ইসির কাছে তথ্য দিয়েছে। ইসি বিষয়টি তদন্ত করছে। গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে ডা. সাবরিনার পৃথক ভোটার হওয়ার বিষয়টির তথ্য পেয়ে তার ব্যাখ্যা চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়া হয়। নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, আমরা ইতিমধ্যে দুদকের চিঠি পেয়েছি। জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়টি দেখে কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ। আমরা সেই বিভাগকে চিঠির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে বলেছি। তারা প্রতিবেদন জমা দেবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো। এর আগে কিছু বলা যাচ্ছে না। দ্বৈত ভোটারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে এবং এর সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডা. সাবরিনা ২০১৬ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় দ্বিতীয়বার ভোটার হন। একটিতে সাবরিনা শারমিন হোসেন নাম দিয়ে ভোটার হন। এতে জন্ম তারিখ ১৯৭৮ সালের ২রা ডিসেম্বর দেখানো হয়। অন্যটিতে ১৯৮৩ সালের ২রা ডিসেম্বর। দুটি আইডিতে বয়সের তফাত অন্তত পাঁচ বছর। একটিতে স্বামীর নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন আর এইচ হক। দ্বিতীয়টিতে স্বামীর নাম লেখা হয়েছে আরিফুল চৌধুরী। একটিতে বাবার নাম সৈয়দ মুশাররফ হোসেন ও মায়ের নাম কিশোয়ার জেসমীন। অপরটিতে মা-বাবার নাম পরিবর্তন করে সৈয়দ মুশাররফ হুসেন ও জেসমিন হুসেন দিয়েছেন। দুই এনআইডিতে দুই ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন তিনি। একটিতে মোহাম্মদপুরের পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটির ঠিকানা অন্যটিতে বাড্ডা এলাকার প্রগতি সরণির আনোয়ার ল্যান্ডমার্কের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একই কাজ করেছেন করোনার টেস্ট ও হাসপাতালে চিকিৎসার নামে প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদ করিমও। তার এনআইডি স্থগিত করেছে ইসি। তিনি নিজের নাম সংশোধন করে ‘শাহেদ করিম’ থেকে হন ‘মোহাম্মদ শাহেদ’। মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ কাজ করেন তিনি। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন। উল্লেখ্য, ভুয়া করোনার রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গত ৫ই আগস্ট জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিএমপি)। এবং ২০শে আগস্ট সাবরিনা ও আরিফুল হক চৌধুরী দম্পতিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
Link copied!