শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

রাষ্ট্রপতি পদে নতুন আলোচনায় সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০২:০২ পিএম, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৩

রাষ্ট্রপতি পদে নতুন আলোচনায় সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে এই পদে মনোনয়নের জন্য পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদের পক্ষে মত আসার পর এই নাম যুক্ত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের এই ব্যক্তি সাবেক মন্ত্রী এবং সাতবারের সংসদ সদস্য। এত দিন রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, দলের সভাপতিমণ্ডলীর জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, সাবেক প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের নাম শোনা গেছে। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকের পর যুক্ত হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের নাম। সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ফিজার দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য বৃহস্পতিবার বলেন, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে রাজনীতিবিদের ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো হয়। পাশাপাশি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যিনি দলের প্রতি, দেশের প্রতি, শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল আস্থার প্রকাশ ঘটিয়েছেন, এমন রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পক্ষে মত দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সাহস ও মনোবলের সঙ্গে তা মোকাবিলা করেছেন। তাই রাষ্ট্রপতি এমন একজনকে হতে হবে, যিনি জনপ্রিয় এবং সাহস ও মনোবলসম্পন্ন। যেকোনো পরিস্থিতি বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, সংসদীয় দলের ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি হামিদের ভূমিকাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনার মত আসে। পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ মনোনয়ন পান, এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ নেতারা একমত। এর পরই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ফিজারের নাম প্রথম দিকে চলে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য ও সংসদ সদস্য বলেন, ফিজার সাবেক মন্ত্রী, সাতবারের এমপি। তাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ-অনুযোগ নেই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মাঠে আলোচনা আছে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নে আওয়ামী লীগ সভাপতি চমক দেবেন। ফিজার হতে পারেন সেই চমক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দু-একজনের নাম আলোচনায় আছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জানা যাবে কে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তফসিল অনুযায়ী সেদিনই সিইসি কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, এটি মোটামুটি নিশ্চিত। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি প্রার্থী না দেওয়ার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে। আগামী ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে। রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কে হতে পারেন—এমন প্রশ্নে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান ও শাজাহান খান বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে একক ক্ষমতা দিয়েছে সংসদীয় দল। তিনি এটা চূড়ান্ত করবেন। আমরা এ বিষয়ে জানি না।’ রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই ১৩ ফেব্রুয়ারি। প্রত্যাহার ১৪ ফেব্রুয়ারি। সংসদ ভবনে ভোট গ্রহণ হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনেই একক প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি পদে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর মাত্র একবার একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়েছিল। সেটা ১৯৯১ সালে। সেবার ক্ষমতাসীন বিএনপির পাশাপাশি তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল।
Link copied!