বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

চিরনিদ্রায় শায়িত সুর সম্রাট আলাউদ্দীন আলী

প্রকাশিত: ০৪:৪২ এএম, আগস্ট ১১, ২০২০

চিরনিদ্রায় শায়িত সুর সম্রাট আলাউদ্দীন আলী

হৃদয়ছোয়া সুরের দীর্ঘজীবন পাড়ি শেষে অনন্তের পথে যাত্রা করলেন সুর সম্রাট আলাউদ্দীন আলী। ভক্ত অনুরাগী, সতীর্থ, স্বজনদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আজ সোমবার বিকেলে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি। আলাউদ্দীন আলী রোববার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ৬৮ বছর বয়সে হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর রাতে তার মরদেহ ছিল বারডেম হাসপাতালে হিমঘরে। সেখান থেকে গতকালে সকাল সাড়ে ১১টায় ক্ষণিকের জন্য মরদেহ আনা হয় বনশ্রীর বাসায়। এর পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় খিলগাঁওয়ের মূল বাড়িতে। স্বজনদের অশ্রু সজল বিদায় শেষে বাদ যোহর খিলগাঁও তালতলা মোড়ে নুর-এ-বাগ জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ এফডিসিতে কর্মমুগ্ধদের শ্রদ্ধায় সিক্ত হন তিনি। ফুলের অর্ঘ্য নিয়ে আসেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি, চিত্রগ্রাহক সংস্থা, গীতিকবি সংঘ, সহকারী পরিচালক সমিতির কর্মকর্তারা। প্রিয় মানুষটির প্রতি আরো শ্রদ্ধা জানান, সঙ্গীত শিল্পী কনকচাঁপা, পার্থ বড়ুয়া, এস আই টুটুল, বাপ্পা মজুমদার, চিত্রনায়ক ওমর সানী, গীতিকবি কবির বকুল, জুলফিকার রাসেল, চলচ্চিত্রকার মুশফিকুর রহমান গুলজার, মিউজিশিয়ান ফেডারেশনের সভাপতি গাজী আব্দুল হাকিম প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলাউদ্দিন আলীর ছেলে শওকত আলী রানা ও মেয়ে আলিফ আলাউদ্দীন। আলিফ আলাউদ্দীন তার বাবার গানের সুর বিকৃত না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা পুরোটা জীবন সঙ্গীতকে দিয়ে গেছেন। বাবার গান নতুনভাবে গান গাওয়ার বিরুদ্ধে আমি নই। কিন্তু তার গানের কিছু সিগনিফিকেন্ট কড রয়েছে। সেগুলো যেন পরিবর্তন করা না হয়, এটাই আমার চাওয়া।' সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের সংগীত গানের জগতে তিনি অপরিহার্য। বাংলা গানকে তিনি যা দিয়েছেন, যে আধুনিক সঙ্গীতায়োজন করেছেন, তার জন্য যতদিন বাংলা গান থাকবে ততদিন তিনি থাকবেন।’ এস আই টুটুল বলেন, ‘তিনি ছিলেন খোলা মনের মানুষ। মায়ার এ মানুষটি চলে গিয়ে আমাদেরকে এতিম করেছেন। তার গানের সুর সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করত। ফলে মানুষ সবসময় তাকে মনে রাখবে।’ এফডিসিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে আলাউদ্দীন আলীর মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বিকেল সাড়ে ৪টায় দাফন করা হয়।
Link copied!