বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

কৃষি-শিল্পতে আরো একটি নতুন চমক! 

প্রকাশিত: ০৯:২৮ এএম, নভেম্বর ১২, ২০২৩

কৃষি-শিল্পতে আরো একটি নতুন চমক! 

মাহমুদা আক্তার খানম: দেশের কৃষি-শিল্পতে আরও একটি নতুন চমক! ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার যাত্রা শুরু হলো। দেশের কৃষি ও শিল্পখাতে ইউরিয়া সার উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃস্টি করতে যাত্রা শুরু করলো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিা সার কারখানা। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে সারের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। এখান থেকে বছরে উৎপাদন হবে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। কারখানা সংশ্লিষ্টরা বলেন দেশের শিল্প ও কৃষিখাতে এই সার উৎপাদন কারখানাটি বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই এর যাত্রা শুরু হলো। যা নির্মাণে মেয়াদপূর্তির দুই মাস আগেই শেষ হয়েছে নরসিংদীর পলাশে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ পরিবেশবান্ধব 'ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা' নির্মাণ কাজ। স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়,ঢাকার পাশ^বর্তী জেলা নরসিংদীর পলাশে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ পরিবেশবান্ধব নির্মিত এ ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। দিনে ২ হাজার ৮ শ মেট্রিকটন ও বছরে ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিকটন ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে কারখানাটিতে। প্রকল্প সংশ্লিস্টরা জানান,দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড়‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। এলাকায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের। দেশের খাদ্যঘাটতি পূরণসহ দেশের কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর সরকার উদ্যোগ নেয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন, শক্তিসাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি সার কারখানা নির্মাণের। এরপর ২০২০ সালের ১০ মার্চ ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। যার দায়িত্ব পায় সিসি সেভেন নামে একটি চীনা এবং জাপানের মিত্সুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ২০২৩-এর ডিসেম্বরে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই মাস আগেই এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে পরীক্ষামূলক সার উৎপাদন করছে কারখানাটি। দুই মাস আগে এই সার কারখানাটি চালু হওয়ায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত সার উৎপাদন হবে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ১১০ একর জমির ওপর নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রতিদিন এখান থেকে ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনে সক্ষম দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ অত্যাধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সার কারখানাটি। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার’প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ সার কারখানা প্রতিষ্ঠিত হলো। যা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বিরাট ভূমিকা রাখবে। বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। সার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কারখানাটি দেশের কৃষি উৎপাদন, কৃষি অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক অবদান রাখবে। শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা জানান, এ কারখানায় কম গ্যাস দিয়ে বেশি সার উৎপাদন করা যাবে। অর্থাৎ পুরোনো দুটি কারখানায় যে গ্যাস ব্যবহার করা হতো, সেই একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে নবনির্মিত কারখানাটিতে প্রায় তিন গুণ (বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার টন) সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের প্রকল্প পরিচালক মো: রাজিউর রহমান মল্লিক জানান, এত বড় লেটেস্ট টেকনোলজি বিদেশিরা করে দিয়ে গেল। জাপানিজ কনসালট্যান্টদের মাধ্যমে আমাদের দেশের প্রত্যেকটা অফিসার, অপারেটরকে ট্রেনিং দিচ্ছি দেশে এবং বিদেশে। বর্তমানে অপারেশন সিস্টেম আমাদের দেশের লোকেরা চালাচ্ছে, তারা (বিদেশিরা) দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে করে আমাদের দেশের লোকদের কনফিডেন্স গ্রো হচ্ছে, কোনোরকম ভুল হলে তারা সেটা ধরিয়ে দিচ্ছেন, দেখিয়ে দিচ্ছেন। হাতে-কলমে ট্রেনিং দিচ্ছেন। আমাদের অফিসার, অপারেটররা ক্যাপাবল, তারা তাদের সামর্থ্য দেখাচ্ছে, তাদেরকে সাফিসিয়েন্ট ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। আমরা অলরেডি উৎপাদনে চলে গেছি। আমরা এখন ট্রায়াল রানে আছি, কোনোরকম সমস্যা হচ্ছে কি না, সবকিছুই নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ট্রায়াল রান আমরা সাকসেসফুলি কমপ্লিট করেছি। ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রজক্টের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) এ এস এম মোসলেহ উদ্দিন জানান, ‘কারখানাটিতে বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ৩০ বছরের মধ্যে কোনো কিছুতে হাত দিতে হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরাও ফার্টিলাইজার সেক্টরে এখন অনেক অভিজ্ঞ। যার কারণে যে কোনো সমস্যা কারখানায় হলে তা সমাধান করতে আমরা সক্ষম।’ কারখানা সংশিল্টদের মতে দেশে নির্মিত এ সারখানায় উৎপাদিত সার ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কৃষি ও শিল্পখাতে আমুল পরিবর্তন আসবে,সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমান বৈদেশীক মুদ্রা। আমদানী নির্ভরতাও হয়ে যাবে বন্ধ। সার উৎপাদনে দেশে নতুন চমকের সৃস্টি হল।  
Link copied!