শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কথিত সাংবাদিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কোম্পানীগঞ্জবাসী

প্রকাশিত: ০৬:১৯ এএম, জুন ২৩, ২০২০

কথিত সাংবাদিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ কোম্পানীগঞ্জবাসী

কখনও নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, আবার কখনও লাঠি হাতে বাজারে টহল, কখনও প্রতিবেশীর বাড়িতে লাল পতাকা ওড়ানো, কখনও মানুষকে মারধর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ঘুরে বেড়ান পুলিশের সঙ্গে। আর পুলিশের গাড়িতে বসেই চলে ফেসবুক লাইভ। করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রশাসনের অভিযানেও বেশ সক্রিয় দেখা যায় তাকে। এ সময় সাধারণ মানুষকে লাঠি দিয়ে পেটাতে পুলিশকে নির্দেশও দেন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের কথিত সাংবাদিক একাধিক মাদক মামলার আসামি হাসান ইমাম রাসেলের এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ স্থানীয় লোকজন ও সংবাদকর্মীরা। মানুষের বিপদের সময়ে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি এসব করছেন বলে মনে করেন সচেতন মহল। তার ফেসবুকে আইডিতে দেখা যায়, রাস্তায় চলাচলরত কয়েকজন নারীকে টার্গেট করে ভিডিও করতে থাকেন তিনি। এ সময় ভয় ও লজ্জায় তারা মোবাইলের ক্যামেরা থেকে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টাও করেন। ফেসবুক লাইভের কারণে তাদের সম্মানহানির অভিযোগ তুলে এর শাস্তি দাবি করেন তারা। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রী ও মেয়ের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন রাসেল। লাঠি হাতে নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয় প্রদর্শনের ভিডিও নিয়েও বিতর্কের জন্ম হয়েছে। করোনা রোগীর বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের লাইভে দেখাচ্ছেন। প্রশাসনের উপস্থিতি ছাড়াই এক ব্যক্তির বাড়িতে লকডাউনের নামে লাল পতাকা টাঙানোসহ রাস্তায় ঘুরে ঘুরে লাইভ দেখিয়ে মানুষকে হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করছেন এই কথিত সাংবাদিক। তার এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় মূলধারার সাংবাদিকরাও। উপজেলার কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক জানান, অনলাইন টিভির সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তি করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় লকডাউনের নামে লোকজনকে হয়রানি ও চাঁদাবাজি করছেন। দুটি মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি কীভাবে পুলিশের গাড়িতে ঘুরে বেড়ান, তা নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৭ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট থেকে মাদকসহ হাসান ইমাম রাসেলকে আটক করে যৌথ বাহিনী। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি তার কথিত অফিসে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার করে। অভিযানের সময় পালিয়ে গেলেও পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন রাসেল। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য হাসান ইমাম রাসেলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও তার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, 'পুলিশের গাড়িতে কোনো সাংবাদিককে ওঠানো হয় না। হাসান ইমাম রাসেল নামের এক সাংবাদিকের নাম শুনেছি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তাকে তিনি চেনি না। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে বলে জানা নেই।' কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ হাসান ইমাম রাসেলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনে বিভিন্ন অনৈতিক তদবির করেন। কিন্তু তার বেআইনি তদবির না রাখায় তিনি উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন।'
Link copied!