বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাগ্যুদ্ধ: উত্তপ্ত নোয়াখালীর রাজনীতি

প্রকাশিত: ০৩:২১ এএম, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

আওয়ামী লীগের দুই নেতার বাগ্যুদ্ধ: উত্তপ্ত নোয়াখালীর রাজনীতি

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সদস্য বলে মন্তব্য করেছেন একরামুল করিম চৌধুরী এমপি। ফেসবুক লাইভে দেওয়া সংক্ষিপ্ত একটি ভিডিও বার্তায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি এ মন্তব্য করেন। মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক । ২৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি রাতেই ভাইরাল হয়। তবে সংসদ সদস্য একরামুল করিমের ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারও তিনি আরও একটি ভিডিও আপলোড করেন। এতে আগের রাতে দেয়া কিছু বক্তব্যের সংশোধনী দেন। বৃহস্পতিবার রাতের ভিডিও বার্তায় একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আচ্ছালামুয়ালাইকুম দেশবাসী, আমি কথা বললে তো আর মির্জা কাদেরের বিরুদ্ধে কথা বলব না। আমি কথা বলব ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একটা রাজাকার পরিবারের লোক এ পর্যায়ে এসেছে, তার ভাইকে শাসন করতে পারে না। এগুলো নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলব। আমার যদি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি না আসে। তাহলে আমি এটা নিয়ে শুরু করব। বৃহস্পতিবার রাতে বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর তার কর্মী-সমর্থকরা নোয়াখালীর মাইজদী শহরের হাউজিং এলাকা, জয়কৃষ্ণপুর, মাইজদী বাজার, লক্ষ্মীনরায়ণপুর, লইয়ার্স কলোনি, কলেজপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করে। প্রথমে খণ্ড খণ্ড মিছিল করলেও পরে তারা শহরের প্রধান সড়কে জমায়েত হয়ে মিছিল করে। মিছিলে তারা কাদের মির্জার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে চারদিক কেঁপে উঠে। শুক্রবার বিকালেও তারা মিছিল করেন। একরামুল করিম চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে মির্জা কাদের অশোভনীয় বক্তব্যের প্রতিবাদে ও মির্জা কাদেরকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন। এরপর শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগের লাইভে এসে একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে নয়, আমি বলেছি মির্জা কাদেরকে। কারণ ওবায়দুল কাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং কমান্ডার। মির্জা কাদেরের পরিবার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পরিবার। একরামুল করিম চৌধুরী এমপি বলেন, শুক্রবার আমার স্ট্যাটাসের পর আমার পক্ষে, দলের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করে, প্রতিবাদ করেছেন নেতাকর্মীরা। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা আজ আর কোনো প্রতিবাদ বিক্ষোভ করবেন না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যদি দলকে ভালোবাসেন, দলের প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবাসেন, ওবায়দুল কাদেরকে ভালোবাসেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে চান তবে আর নিজেদের মধ্যে বিরোধ নয়। আমাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকলে সিনিয়র নেতারা ডেকে তা মিনিমাইজ করে দেবেন। একরামুল করিম বলেন, মির্জা কাদের এমন কি কোনো ব্যক্তি? যে তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে হবে? তিনি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকার পক্ষে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন এ নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক। প্রার্থীদের হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। নৌকার বিরোধিতা করা মানে শেখ হাসিনার বিরোধিতা করা।
Link copied!