শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সাফে বাংলাদেশের মেয়েদের আরেকটি বিজয় নিশান উড়ল

প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৩

সাফে বাংলাদেশের মেয়েদের আরেকটি বিজয় নিশান উড়ল

ফেভারিট হিসেবে শুরু করা বাংলাদেশ শেষটাও করল রাজসিকভাবে। নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নিল বাংলাদেশ। আরেকবার সাফ চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফাইনালের প্রায় পুরোটা সময় কর্তৃত্ব করে প্রীতি রায় ও তার দলকে হারান শামসুন্নাহার, সাহেদা আক্তার রিপারা। শুরুর দিকে সুযোগ হারালেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুটি গোল করে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে আরেকটি গোল করে প্রতিপক্ষের ঘুরে দাঁড়ানোর সব সম্ভাবনা শেষ করে দেয় লাল-সবুজরা। একটি করে গোল করেন রিপা, অধিনায়ক শামসুন্নাহার ও উন্নতি খাতুন। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আরেকটি বিজয় নিশান উড়ল বাংলাদেশের মেয়েদের। গত বছর নেপালে অনুষ্ঠিত সিনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে নেন সাবিনা খাতুনরা। সেখানে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দল একের পর এক সাফল্য নিয়ে আসছে। চার বছরের মধ্যে দুটি বয়সভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা। তাদের হাত ধরে এবার এল আরেকটি সাফ মুকুট। এটা সাফের চতুর্থ বয়সভিত্তিক আসর। এ চার আসরে তিনবারই শিরোপা জিতে এ অঞ্চলের নারী ফুটবলে পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলো বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে ভুটানে অনুষ্ঠিত প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। সেবার আলো ছড়ান সিরাত জাহান স্বপ্না, আঁখি খাতুন, যারা পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন জাতীয় দলের তারকা। ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে নেয় স্বাগতিক ভারত। সেবার তিন দলের আসরে রাউন্ড রবিন লিগের পয়েন্টের ভিত্তিতেই শিরোপা নির্ধারণ হয়। ভারতের সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। অবশ্য এর তিন মাস আগে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় বাংলাদেশ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত আসরে ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারায় স্বাগতিক দল। সেবার রিপা সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় দুটো পুরস্কারই জিতে নেন। গতকাল বয়সভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় মুকুট জিতল বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০২১ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফে বাংলাদেশের সাফল্যের রূপকার রিপা এবারো অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তিন গোল করে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। গতকাল ফাইনালে ৪২ মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম গোলটি তিনিই করেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন শামসুন্নাহার। আর ৮৬ মিনিটে ফ্রি কিকের বলে শট নিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন উন্নতি। আসরে তিন জয় ও এক ড্রয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। রাউন্ড রবিন লিগে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে যাত্রা মেয়েদের। এরপর ভারতের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও ভুটানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পান শামসুন্নাহাররা। ফর্ম ধরে রেখে ফাইনালে নেপালকে হারালেন তারা। গত বছর সেপ্টেম্বরে কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালেও সেই নেপালকে হারাল মেয়েরা। বড়দের সাফ ও অনূর্ধ্ব-২০ সাফে টানা বাংলাদেশের কাছে হারের পর গোরখালি মেয়েরা প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল। ভারতকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসও পেয়েছিল তারা। তবে উড়তে থাকা শামসুন্নাহারদের রুখতে পারেনি অতিথি দলটি। আসরের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক শামসুন্নাহার। সেরা গোলকিপার বাংলাদেশের রুপনা চাকমা, যিনি গত বছর সিনিয়র সাফেও সেরা গোলকিপার হন। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এ অসামান্য অর্জনের নেপথ্য কারিগর গোলাম রব্বানী ছোটন। তার কোচিংয়েই বয়সভিত্তিক ফুটবলে তিনটি ও সিনিয়র ফুটবলে একটি সাফ মুকুট জয় করল বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশকে চতুর্থ সাফ মুকুট এনে দেয়ার পর এ গর্বিত কোচ বলেন, ‘?এ টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য দিনের পর দিন মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। গতবার আমরা এ আসরে ভারতের সমান পয়েন্ট পেয়েও চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি, গোল পার্থক্যে রানার্সআপ হয়েছিলাম। এবার মেয়েরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার পেয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নেপাল ম্যাচে চোট পাওয়ার কারণে শামসুন্নাহারকে নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা অনেকে বলেছিল, কিন্তু সে ফিরে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছে। আমি সবসময় বলেছি, শামসুন্নাহার আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। টুর্নামেন্টজুড়ে সে দেখিয়েছে দলের জন্য সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ টুর্নামেন্ট সেরা শামসুন্নাহার বলেন, ‘এর আগে দুই আসরে অধিনায়কত্ব করে ফাইনাল খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি, এই প্রথম শিরোপা জিতলাম। অধিনায়ক হিসেবে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, আমার টিম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটা ভাগ্যের ব্যাপার। দলের সবাইকে ধন্যবাদ।’
Link copied!