মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বেশিরভাগ মানুষেরই করোনার ভ্যাকসিন লাগবে না: অক্সফোর্ড গবেষক

প্রকাশিত: ১২:৩৯ পিএম, জুলাই ৩, ২০২০

বেশিরভাগ মানুষেরই করোনার ভ্যাকসিন লাগবে না: অক্সফোর্ড গবেষক

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের দাপটে বিশ্ববাসী আজ কোনঠাসা। রোজ মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছেন হাজারো মানুষ। এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক এখনও তৈরি হয়নি। রেমডিসিভির দিয়ে অনেক দেশে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে এটি কোভিড-১৯ এর অব্যর্থ ভ্যাকসিন এমনটি মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। করোনাভাইরাসের কার‌্যকর ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্যে বিশ্বের প্রথিতযশা বিজ্ঞানীরা রাত দিন কাজ করছেন। এরইমধ্যে ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশ করোনার টিকার হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছে। অন্তত ১২টি ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল চলছে। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সুনেত্রা গুপ্ত মনে করছেন, বেশিরভাগ মানুষেরই করোনা টিকা নেয়ার প্রয়োজন হবে না। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো তাদের এই টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই। বৃহস্পতিবার হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুনেত্রা বলেন, অধিকাংশ মানুষের জন্য এই ভাইরাস দুশ্চিন্তার কারণ নয়। এই বাঙালি বিশেষজ্ঞের দাবি, সাধারণ ফ্লু বা জ্বরের ক্ষেত্রে যতটা ঝুঁকি থাকে করোনার ক্ষেত্রে একজন সম্পূর্ণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরও ঠিক ততটাই ঝুঁকি রয়েছে। যারা বয়স্ক বা যাদের আগে থেকেই কোনো বড় রকমের স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই করোনায় বিশেষ ঝুঁকি রয়েছে। অক্সফোর্ড গবেষক জানান, যাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, কেবলমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই প্রতিষেধক করোনায় স্বাস্থ্যহানীর ঝুঁকি কমানোর পক্ষে সহায়ক হতে পারে। তিনি বলেন, তবে অধিকাংশ মানুষেরই ক্ষেত্রেই এই ভাইরাস নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। করোনা খুব সহজেই মোকাবেলা সম্ভব বলেও মনে করেন সুনেত্রা। বলেন, ইনফ্লুয়েঞ্জার চেয়েও এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার কম। তাই প্রতিষেধক এসে গেলে খুব সহজেই করোনার মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তার মতে, লকডাউন জারি করে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে লকডাউন কখনওই করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে না। প্রসঙ্গত, চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বিশ্বের ২১৩ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই মহামারীতে শুক্রবার পর্যন্ত সারা বিশ্বে মারা গেছেন ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮২৫ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ১০ লাখ ১৮ হাজার ৬৪২ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৭ জন। করোনাকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
Link copied!